সেন্ট মার্টিনে ভাতের জন্য হাহাকার: দ্বীপবাসীর দুর্দশা কেন লোকচক্ষুর আড়ালে?

সেন্ট মার্টিনে ভাতের জন্য হাহাকার: দ্বীপবাসীর দুর্দশা কেন লোকচক্ষুর আড়ালে?
শেয়ার করুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার, ৩ মে ২০২৫: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অধিবাসীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। খাদ্যাভাবে মানুষ ও প্রাণী হাহাকার করছে, অথচ দ্বীপের এই বাস্তবতা দেশবাসীর দৃষ্টির আড়ালে রাখা হচ্ছে। কেন স্থানীয়দের ছাড়া কাউকে দ্বীপে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না? এমনকি আত্মীয়-বন্ধু বা সাংবাদিকদেরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি নিতে হচ্ছে কেন?

গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে হুমকি আর প্রবাল দেয়াল রক্ষার অজুহাতে দ্বীপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু এখনও কি সেই হুমকি অব্যাহত? জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন মৌসুম শেষ, ট্রলার বা স্পিডবোটে ভয়ে পর্যটকরাও আসছেন না। তবু কেন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল?

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, দ্বীপের স্বার্থে এই পদক্ষেপ হলে, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে তাদের কর্মসংস্থানের কী ব্যবস্থা হয়েছে?

দ্বীপের অধিবাসীরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ উপদেষ্টা সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। খাদ্যাভাবে কুকুর, বিড়াল ও কাক মারা যাচ্ছে। ক্ষুধার্ত প্রাণীরা কচ্ছপ ও মানুষের ওপর আক্রমণ করছে। সৈকতে ঝিনুকবালি দৃশ্যমান হওয়াকে অনেকে প্রশংসা করলেও, স্থানীয়রা বলছেন, এটি ভয়াবহ ভাঙনের সংকেত। সমুদ্রের জোয়ার এখন সৈকতের কাছাকাছি চলে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংকটে প্রায় ৫০০ মানুষ দ্বীপ ছেড়ে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারে জীবিকার খোঁজে চলে গেছেন। অনেকে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ কক্সবাজার সৈকতে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করছেন। যারা দ্বীপে রয়ে গেছেন, তাদের অবস্থা করুণ। দিনে দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও অনেক পরিবারের জন্য দায়। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। গোপনে ঝিনুকবালি ও মিয়ানমারে মালামাল পাচারও এই সংকটের প্রমাণ।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঈদুল ফিতরে অনেক পরিবার পুরনো কাপড়ে ঈদ করেছে, নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য ছিল না। আসন্ন ঈদুল আজহায় ২০% মানুষও কুরবানি দিতে পারবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়া দ্বীপের নতুন রূপের মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দ্বীপবাসী ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি।

কাছিমের বাচ্চা অবমুক্তকরণের বিষয়টি দুই দশক ধরে চললেও, মিডিয়া এখন তাকে নতুন অর্জন হিসেবে প্রচার করছে। অথচ উচ্চ তাপমাত্রা ও কুকুরের আক্রমণে অনেক ডিম নষ্ট হওয়ায় বাচ্চার উৎপাদন কমে গেছে। গ্যাসের চুলার বদলে মাটির চুলা ও কেয়া গাছ কেটে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

দ্বীপবাসীদের দাবি,

“মিষ্টি কথা নয়, কাজ চাই, নইলে ভাত দিন।”

সরকারের কাছে তাদের দাবি, অবিলম্বে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক, এবং দ্বীপে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক।

Visited 999 times, 1 visit(s) today