নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬শে এপ্রিল, ২০২৫
খুলনার মোংলা শহরে এক কিশোরীর (১৪) আত্মহননের ঘটনার ভিন্ন মোড় নিতে শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখন জানা গেছে, এক বখাটে যুবক ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এই কিশোরীকে বেড়াতে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেখার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং লজ্জায় ও বখাটেদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে একপর্যায়ে আত্মহননে বাধ্য হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে সুনাম কুড়ানো সেই কিশোরীর আত্মহননের ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর এক নারীসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ই এপ্রিল ধর্ষণ ও আত্মহননে প্ররোচনার দায়ে এজাহার দায়ের করেন তার বাবা।
এরপর আদালতের নির্দেশে গত ২১শে এপ্রিল মোংলা থানা পুলিশ এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচনা সংক্রান্ত ধারায় মামলা রেকর্ড করেন। যার প্রধান আসামি আসহাবুল ইয়ামিনকে (২৪) বিশেষ অভিযান চালিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধবী কলোনি এলাকা থেকে গত ২২শে এপ্রিল গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসহাবুলের বাবা সোহেল রানা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নৌযানে মাস্টার পদে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর কিশোরীর পরিবার জানায়, ওই কিশোরী পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেটে পারদর্শী ছিল। ক্রিকেট খেলার সুবাদে অত্যন্ত চটপটে ওই কিশোরীর মোংলার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট খেলার সুবাদে আসহাবুল ইয়ামিন ও তার কয়েক সহযোগীর সঙ্গে পরিচয় হয়।
কিছুদিন পর আসহাবুল ও তার সহযোগীরা তাকে ফুসলিয়ে ট্রলারে করে সুন্দরবনের করমজল পিকনিক স্পষ্টে নিয়ে যায়। সেখানে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। উক্ত ঘটনার দৃশ্য ও নগ্ন ছবি-ভিডিও নিয়ে রাখে। এসব ব্যবহার করে আসহাবুল ওই কিশোরীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেল করতে থাকে।
ফেসবুকে ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করে। দিনকে দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে এক পর্যায়ে গত ১৪ই ডিসেম্বর এক সহযোগীর মোটরসাইকেলে করে আসহাবুল কাইনমারী এলাকার একটি কফিশপে কিশোরীকে ডেকে নেয়। সেখানে আসহাবুলকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে কিশোরীকে তিরস্কার ও অপমানমূলক কথা বলে এবং বিয়ে করতে অস্বীকার করে। অপমানিত হয়ে কিশোরী ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় প্রথমে মোংলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে কিশোরীর অভিভাবকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ঘটনা জানতে পেরে আসহাবুলসহ তার কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ই এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচনা সংক্রান্ত ধারায় এজাহার দাখিল করেন।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। ঘটনার অন্যতম হোতা আসহাবুল ইয়ামীনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
