বিএনপিতে দখল-চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্ধে চট্টগ্রামে ৯ মাসে ১২ রাজনৈতিক খুন

বিএনপিতে দখল-চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্ধে চট্টগ্রামে ৯ মাসে ১২ রাজনৈতিক খুন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছে। মব করে, ডিজে পার্টি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। ইউনূস সরকার বিচারের উদ্যোগ না নিয়ে মবকে রাষ্ট্রীয় ভাবে উস্কে দিয়েছে এমন অভিযোগ আছে সুধীজনের। তাই এখনো পথে ঘাটে, হাটেন বাজারে, ঘরে বাইরে খুনের ঘটনা ঘটছে প্রকাশ্যে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক শহরে চট্টগ্রামও খুনের শহরে পরিণত হয়েছে। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর উৎসব করে এই শহরে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত ৯ মাসে এক ডজন রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক ঘটনাই ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের কারণে। দখল ও চাদাবাজি নিয়েই এসব খুনোখুনি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা গেছে গত ৯ মাসে চট্টগ্রামে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকা-ের মধ্যে ৯জনই বিএনপি নেতাকর্মী। তারা আভ্যন্তরণী দ্বন্ধে খুন হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চট্টগ্রামে ২৮ আগস্ট প্রথম খুনের ঘটনা ঘটে রাউজানে। চলতি মাসেও রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে একই উপজেলায়। গত ১৯ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী মানিককে। এ পর্যন্ত শুধু রাউজানে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন।
এসব খুনের পেছনে দলীয় কোন্দল এবং বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে রাউজানের বাইরে প্রাণ গেছে নয় বিএনপি নেতা-কর্মীর। এরমধ্যে আছেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি থেকে সাধারণ কর্মীও।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলীয় কোন্দলে মারামারি-সংঘর্ষ যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা, মহানগর কিংবা কেন্দ্রীয় হুঁশিয়ারি এমনকি বহিষ্কার করেও থামানো যাচ্ছে না এসব ঘটনা। এগুলোও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে গত নয় মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে খুন বেড়েছে। ইতোমধ্যে খুন হয়েছেন ১২ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধে ভূমিকা নিতে হবে দলকেই। আর তৃণমূল পর্যায়ে দলাদলি নিরসন একা পুলিশের পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব নয়।
নাগরিকরা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া হয়ে গেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এতে নিজেরা হতাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আতঙ্কে আছেন।

Visited 73 times, 1 visit(s) today