নিজস্ব প্রতিবেদক | ৯ই এপ্রিল, ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ প্রতিরোধে নামা পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পেটানোর ঘটনার পরপরই নোটিশ জারির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের রবিনটেক্স গার্মেন্টস।
৯ই এপ্রিল, বুধবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নোটিশ জারির মাধ্যমে কারখানা বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রবিনটেক্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও কম্পটেক্স বাংলাদেশ লিমিটেড-এর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে জারিকৃত নোটিশে বলা হয়েছে, ঈদের বন্ধের পর ৮ই এপ্রিল কারখানা খোলার পর থেকে দাবি-দাওয়ার নামে কিছু শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘট, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর-লুটপাট ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে যাচ্ছেন।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে অযৌক্তিক ও বেআইনি উল্লেখ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করায় কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ১০ই এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসাথে, দোষী শ্রমিকদের শাস্তি নিশ্চিতের কথাও উল্লেখ করা হয় নোটিশে।

উল্লেখ্য, অন্যায্য কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে রবিনটেক্স কারখানায় অসন্তোষ দেখা দেয় ৮ই এপ্রিল। শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায়-দফায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ৫০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মুবিন, সৈনিক বাঁধন, সোহরাব ও মেহেদী ছাড়াও আছিয়া, মারুফা, ইকবাল, শাফিয়া, রুনা, টিপু, মলিনা, মাজেদা, বাপ্পি, রুপুসহ অনেক শ্রমিক আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
জানা গেছে, ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বললে উভয়পক্ষে বাকবিতণ্ডা হয়। তখন শ্রমিকরা কারখানার সামনের রাস্তা ব্লক করে বসতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়, মৃদু লাঠিচার্জ করে। এতে শ্রমিকরা তাদের দিকে পানির বোতল ছোড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ঈদের আগে আমাদের ৫০ জন শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। আমরা তাই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আমরা কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের চেষ্টা করি, কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকজন আমাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে নারীসহ আমাদের অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়।
