জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামিনে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মামুনুর রশিদকে (৪২) নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে গেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
৪ঠা এপ্রিল, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার সিধইল সড়কে তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
মামুনুর রশিদ নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মামুনুর রশিদ। পথে সিধইল সড়কে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে মৃত ভেবে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায় তারা।
খবর পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে মামুনুর রশিদকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।
গত ২৫শে অক্টোবর রাতে মামুনুর রশিদকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। ঈদের কয়েকদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন।
নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন দিগন্তময় সরকার বলেন, “আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত রেফার করি।”
এদিকে, এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ এখনো কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “মামুনুর রশিদের নামে থানায় মামলা ছিল এবং সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কবে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তা জানা নেই। হামলার ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আওয়ামী লীগ নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
