বরিশালে টিসিবির ৮ হাজার স্মার্ট কার্ড বাতিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা

বরিশালে টিসিবির ৮ হাজার স্মার্ট কার্ড বাতিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর প্রায় ৮ হাজার টিসিবি কার্ডধারীর কার্ড বাতিল হয়ে গেছে শুধুমাত্র ‘অ্যাক্টিভ’ না করায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ কার্ডধারীরা দোষারোপ করছেন টিসিবি ও সিটি কর্পোরেশনকে।

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজ হোসেন জানান, মার্চ মাসে পাওয়া স্মার্ট কার্ড দিয়ে তিনি একবার পণ্য তুললেও, ঈদুল ফিতরের আগে তা বাতিল হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন।

তার অভিযোগ, “কার্ড দেওয়ার সময় কেন অ্যাক্টিভ করে দেওয়া হলো না? এটি তো ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্ব। আমাদের জানানোও হয়নি যে গিয়ে অ্যাক্টিভ করে আসতে হবে।”

একই অভিযোগ তুলেছেন দীপা রানী দাস, জাফর জমাদ্দার ও দুলাল হোসেনসহ অনেকে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কার্ড বাতিলের দায় কে নেবে?

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগের মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহর সময়ে বরিশালে ৯০ হাজার ম্যানুয়াল কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারিতে টিসিবি কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে ৬০ হাজার কার্ড বাতিল করে দেয়। পরে গত মাসে ৩১ হাজার ৭০০ স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। এসব কার্ডের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অ্যাক্টিভ না হওয়ায় বাতিল হয়েছে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব জাকির হোসেন দাবি করেন, তার ওয়ার্ডে ৬৮৭টি কার্ড বিতরণ করা হয়, এর মধ্যে মাত্র ১০-১২টি অ্যাক্টিভ না করায় বাতিল হয়েছে। যদিও স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মীর ভাষ্য, এই ওয়ার্ডেই দেড়শর মতো কার্ড বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডে ৩ হাজার ১৮০টি স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০-৩০০টি অ্যাক্টিভ না করায় বাতিল হয়েছে। অনেক গ্রাহক নিজেরাও সচেতন ছিল না।”

টিসিবির বরিশাল শাখার সহকারী পরিচালক শতদল মণ্ডল জানান, “কার্ড অ্যাক্টিভ করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। তারা সময়মতো না করায় ৭-৮ হাজার কার্ড বাতিল হয়েছে। আবার কেউ কেউ নিজেরাও কার্ড নিতে আসেননি।”

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, “কার্ড বাতিলের বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কার্ডধারীরা এখন প্রশ্ন তুলেছেন—এতো আয়োজন করে দেওয়া স্মার্ট কার্ড যদি এক ঘোষণাতেই বাতিল হয়, তবে এমন প্রকল্পের সুফল কে পাবে? সাধারণ মানুষ না কি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা?

Visited 54 times, 1 visit(s) today