কূটনীতি ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের চীন সফরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা শিপিং কর্পোরেশনের জন্য ৪টি সমুদ্রগামী জাহাজ ক্রয়ের অর্থায়নের খবরে উল্লসিত ইউনূস-প্রশাসন ও তার সমর্থকরা। তবে এই অর্থায়নে নতুনত্ব কিছু নেই। এমনকি এই দুই দেশের এই সমঝোতার পেছনে ড. ইউনূসেরও কোনো অবদান নেই।
পুরনো নথি ঘেঁটে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১২ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে চীন থেকে ৪টি জাহাজ কিনতে অনুমোদন দিয়েছিল।
তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সচিব সাঈদ মাহবুব খান মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কর্তৃক “জিটুজি ভিত্তিতে ২টি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং ২টি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ” অর্থাৎ মোট ৪টি জাহাজ ‘চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন’এর কাছ থেকে কেনা হবে। জাহাজগুলো কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৭ টাকা।
আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার চীনের নির্বাহী ভাইস-প্রিমিয়ার ডিং শুয়েশিয়াং হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য ৪টি সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার জন্য চীনা অর্থায়নের ‘আশ্বাস’ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের দিন চার দিনের সফরে চীন রওনা হন ড. ইউনূস। তবে তিনি এ সফরের আগে ভারত যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ড. ইউনূস চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন। তবে দেশটি থেকে ঢাকার এ অনুরোধের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
