সংবাদ প্রতিবেদন
গত বছরের ৫ই আগস্টের পর ৪৬০টির বেশি থানা আক্রমণ, অসংখ্য পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটপাটের পর থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা উঠে এসেছে, তা হলো- পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু পুলিশের নিরাপত্তা কে দেবে?
এবার রাজধানীর পল্লবী থানায় ঢুকে আব্দুর রাজ্জাক ফাহিম নামে এক যুবকের অতর্কিত হামলায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলাকারী যুবকসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
১০ই মার্চ, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে পল্লবী থানা ডিউটি অফিসারের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার শরিফুল ইসলাম ও এএসআই (সশস্ত্র) মো. নাসির।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ফাহিম নামে এক যুবক রাত ২টার কিছু আগে থানায় ঢুকে এই এলাকায় একটি মার্ডার হয়েছে বলে জানায়। এরকম ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি- বলা হলে ওই যুবক পাল্টা প্রশ্ন করেন- আপনারা এটা নিয়ে লুকোচুরি করছেন কেন? আপনার ডিউটি অফিসার জানে।
তখন ওই যুবককে নিয়ে ডিউটি অফিসারের কক্ষে গেলে সেখানে উপস্থিত অন্য সেবা প্রত্যাশীরাও জানান এরকম ঘটনা তাদের জানা নেই।
ওসি বলেন, এসময় ওই যুবকের পরিচয় জানতে চাইলে জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তখন আমি তাকে হাত ধরে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি অতর্কিতভাবে আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এএসআই নাসির ঠেকাতে তার একটি আঙুল ভেঙে দেন তিনি। সেকেন্ড অফিসারের কপালেও ঘুষি মারেন। পরে আমরা তাকে আটক করি।
নজরুল ইসলাম বলেন, আটকের পর ওই যুবক জানায় বাইরে একটি গাড়িতে আরও তিন সঙ্গী রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি তারা গাজীপুর থেকে এসেছেন। রাতে ঘুরতে বেরিয়েছেন। আমরা ওই তিনজনকেও থানায় নিয়ে আসি। হামলাকারী আব্দুর রাজ্জাক ফাহিমের বাড়ি গাজীপুরে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনার পর আমরা তিনজন কুর্মিটোলা হাসপাতালে যাই। সেখানে এএসআই মো. নাসিরের হাত এক্সরে করে দেখা যায় তার আঙুলটি ভেঙে গেছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
