বীর চট্টলায় স্বাধীনতাবিরোধীর নামে চবির স্থাপনা

বীর চট্টলায় স্বাধীনতাবিরোধীর নামে চবির স্থাপনা
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নামকরণের মধ্যে অন্যতম হলো, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসিতে ঝুলে যাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীকে সম্মান জানিয়ে নির্মিত আবাসিক হলের নামকরণ। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সট্রা-অর্ডিনারি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছাত্রদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক হল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হল’। শহীদ ফরহাদ হোসেন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি গত বছরের ৪ আগস্ট মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এছাড়া ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হলে’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বিজয় চব্বিশ হল’। ছাত্রীদের আবাসিক হল ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে’র নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’, যিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা নওয়াব এবং নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য নতুন নির্মিত শামসুন নাহার হলের জায়গায় আবাসিক হলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী হল’। ফজলুল কাদের চৌধুরী, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন এবং শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার নামেই এই হলের নামকরণ করা হয়।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় কলা অনুষদ ভবন ‘আবু ইউসুফ ভবন’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবন’। হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন, গত বছর ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং পাঁচদিন পর হাসপাতালে মারা যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যানে’ নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব উদ্যান’ এবং ‘শেখ কামাল জিমনেসিয়ামের’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম’।

এই নামকরণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তার ইতিহাস এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, যা বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

Visited 162 times, 1 visit(s) today