নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন তার প্রোগ্রামে নারী সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেননি। বুধবার এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক এমি জান্নাত ফেসবুকে এ বিষয়ে পোস্ট দেন।
ওই নারী সাংবাদিক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, দেশের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মধ্যে মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টাকে শুধু আলাদা করে ছেলেদের সেবায় কাজ করার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে কি না, প্রশ্ন রেখে গেলাম। যদি এটাই হয়ে থাকে, স্পষ্টত উল্লেখ করে কাজ করার অনুরোধ।
একজন ‘নারী’ সাংবাদিক বলে নিউজ কাভার করতে পারবে না, এটা কতটা দুঃখজনক এবং অবমাননাকর, বলতে পারেন?
সম্মানিত ধর্ম উপদেষ্টা একটা কর্মসূচী করার আগে মিডিয়া কাভারেজের অনুরোধ করবেন, মানে সেটা নিয়ে সংবাদ করতে হবে। কিন্তু কোনো নারী সাংবাদিক সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না! আমি তো শুধু পেশার নামটাই জানি, সেটা আবার লিঙ্গ ধরে টানা হয় জানতাম না। তো ইনভাইটেশনে এটা উল্লেখ করেননি কেন যে, ‘নারী’ রিপোর্টার পাঠাবেন না!?
এর আগেও বহুবার এই সংক্রান্ত প্রোগ্রাম কাভার করতে গিয়ে করতে না দেয়ার ঘটনা ঘটেনি তা নয়, আবার তাদের মধ্যেই অনেকে ভেতরে সসম্মানে ঢুকতে দিয়েছেন, আমাদের সহকর্মী ভাইয়েরা জায়গা করে দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো দেশের দায়িত্বে থাকা সুনির্দিষ্ট কারও প্রোগ্রাম না হওয়ায় চুপ থেকেছি।
কিন্তু আজকে মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টার অনুষ্ঠানে আমিসহ কয়েকটি মিডিয়ার ‘নারী’ রিপোর্টারকে এটা ফেইস করতে হয়েছে। কয়েকজন আগেই ফিরে গেছেন বলে জানান সেখানকার গার্ডরা। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো বলবেন, কেউ বলবেন না।
এরপরও আমি অপেক্ষা করি। এর মধ্যে একজন এসে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে দেখিয়ে বললেন, ‘আপু, আবার ওনাদের জিজ্ঞেস করে এলাম, ঢুকতে পারবেন না মেয়েরা!’
একজন সম্মানিত উপদেষ্টার অনুষ্ঠানে সাংবাদিক না শুধু, যেকোনো ‘নারী’র প্রবেশে অনুমতি নেই, একটু বেশিই হাস্যকর করে ফেললেন না??
নির্দেশনা যারই হোক, সংশ্লিষ্ট কেউই কি দায় এড়াতে পারেন?
