পারিশ্রমিক ইস্যুতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মাঝে বিপিএলে নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছে চিটাগাং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলটি নূর-এ রায়ান সাম্য নামে একজন তরুণকে খেলোয়াড় হিসেবে নথিভুক্ত করেছে যার স্বীকৃত কোন পর্যায়ে খেলার কোন ইতিহাস। বরং এই তরুণের আছে রাজনৈতিক সংযোগ।
বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরীর মালিকানাধীন দল চিটাগাং কিংস। সামির নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার চাচা সাবেক বিএনপি নেতা ও যুদ্ধপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
দুর্বার রাজশাহীর মতন বিপিএলে এই দলের বিপক্ষে আসছে একের পর এক অভিযোগ। জাতীয় দলের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে পারিশ্রমিক না দিয়ে দম্ভের সঙ্গে তিনি সেটা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘টাকা কি আমার গাছে ধরে?’ পারভেজের পাশাপাশি বিদেশি একাধিক খেলোয়াড়কেও কোন টাকা দেননি সামির।
এবার নূর রায়ান সাম্য নামক তরুণকে খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন তিনি। চলমান বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব থেকে সাম্য দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন, যদিও ক্রিকেট সার্কিটে তিনি স্বীকৃত নাম নন। দলের হোটেলে তার উপস্থিতি এবং অনুশীলন সেশনে অংশগ্রহণ চোখ কপাল ওপরে তুলেছে।
বিসিবির বয়সভিত্তিক, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়, স্বীকৃত ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে বিপিএলের ড্রাফটে রাখা হয় না। টুর্নামেন্টের আগে এই তরুণের নাম তাই ড্রাফটেও ছিলো না। তাকে কোন উপায়ে স্কোয়াডভুক্ত করা হলো তা এক রহস্য।
জানা গেছে সাম্যর পরিবার পাবনায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই পরিবারের সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ সংযোগ আছে সামির কাদের চৌধুরীদের। খেলোয়াড়ি কোন দক্ষতা ছাড়া রাজনৈতিক কারণে এভাবে একজনকে বিপিএলের মতন আসরে দলভুক্ত করার ঘটনা জন্ম দিয়েছে বিস্ময়ের।
এই ব্যাপারে চিটাগাং কিংসের ম্যানেজার লাবলু রহমান বলেন, ‘সে দলের সঙ্গে আছে, অনুশীলন করছে। এটাই সব। আমি কোনো রাজনৈতিক সংযোগের কথা জানি না।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির আরেক সদস্য বলেন, ‘আমি গুজব শুনেছি, কিন্তু আমার মতে, এটি রাজনৈতিক নয়। সাম্য দলের মালিকের আত্মীয়।’
