সংবাদ প্রতিবেদন
রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপি) শনাক্ত প্রথম রোগী মারা গেছেন।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা এই নারী গত শুক্রবার থেকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)–তে ভর্তি ছিলেন।
চিকিৎসক জানান, “এইচএমপি ভাইরাস ছাড়াও তার শরীরে আরও কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল, যার ফলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ নওশের আলম বলেন, আমরা দেশে প্রথমবারের মতো একজন এইচএমপিভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ভাইরাসটি সম্প্রতি চীনের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। পরে ভারতের কর্ণাটকেও এক শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া গেছে গত ১২ই ডিসেম্বর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এইচএমপি ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণত ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। যদিও উপসর্গ মৃদু, তবে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এই ভাইরাস বাংলাদেশে নতুন নয়। এটি অনেকদিন ধরেই আছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক সতর্কতা মেনে চললে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা এবং জ্বর বা সর্দি-কাশি থাকা ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেছেন।
ডা. মুশতাক আরও বলেন, এইচএমপি ভাইরাস নিজে প্রাণঘাতী নয়। তবে যাদের কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
তিনি ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
