ওসি পরিচয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজি, ছাত্রদল নেতাকে গণপিটুনি

ওসি পরিচয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজি, ছাত্রদল নেতাকে গণপিটুনি
শেয়ার করুন
স্থানীয় সংবাদদাতা

থানার ওসি পরিচয় দিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন ছাত্রদলের নেতা।

জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে হয়রানি করে অপহরণ ও চাঁদাবাজি করার সময় এলাকাবাসী গণপিটুনির শিকার হন। পরে তাকে কোতোয়ালী থানায় সোপর্দ করে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৯ই জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের ভাটিনা ঠাকুরবাড়ি গ্রামের চাকলাদার পুকুরপাড় এলাকায় তাকে গণপিটুনি দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

এ ঘটনায় শুক্রবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভাটিনা ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত নির্ভয় বর্মণের ছেলে চৈতু বর্মণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৈতু বর্মণের ছেলে ইমন চন্দ্র বর্মণের (২২) সঙ্গে একই গ্রামের এক মেয়ের (১৯) প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়, তারা টাঙ্গাইলে বসবাস করছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার ৭ই জানুয়ারি আব্দুর রাজ্জাকসহ তার সঙ্গীরা মাইক্রোবাস নিয়ে রাত পৌনে ১২টায় দিনাজপুর সদরের ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের ভাটিনা ঠাকুরবাড়ি গ্রামে চৈতু চন্দ্র বর্মণের বাড়িতে গিয়ে নিজেকে কোতোয়ালি থানার ওসি পরিচয় দিয়ে চৈতু বর্মণের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে থানায় যেতে বলেন।

এ সময় পরিবার ও স্থানীয়দের কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তোলেন। মাইক্রোবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে করে তার ছেলের ঠিকানা নেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে টাঙ্গাইলে অপহরণ করে নিয়ে যান।

টাঙ্গাইল থেকে ছেলে ইমনসহ তার বাবা বাদী চৈতুকে নিয়ে বুধবার ৮ই জানুয়ারি রাত ১০টায় পুনরায় দিনাজপুর নিয়ে এসে ৪নং শেখপুড়া ইউনিয়নের মাধবপুর গোয়ালপাড়া এলাকায় মহেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে নিজের ও ছেলের জীবন বাঁচাতে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে রাজি হয়ে একদিনের সময় চাইলে রাতে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে মামলাসহ প্রাণনাশের হুমকিও প্রদর্শন করে।

পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ছাত্রদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও লোকজন চৈতু ও তার ছেলেকে ভাটিনা ঠাকুরবাড়ি গ্রামের চাকলাদার পুকুর পাড়ে ডেকে নেন। এ সময় ওই চাঁদার টাকা দাবি করে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তখন এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে তারা এগিয়ে আসেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে করেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, “বিক্ষুব্ধ জনতার কাছ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ও আপেলকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”

Visited 43 times, 1 visit(s) today