কর বৃদ্ধি এবং ১২% মুদ্রাস্ফীতি: জনজীবনে বাড়ছে চরম সংকট

কর বৃদ্ধি এবং ১২% মুদ্রাস্ফীতি: জনজীবনে বাড়ছে চরম সংকট
শেয়ার করুন

বর্তমান সরকারের নতুন ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। ১২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। কোথায় কোথায় বাড়ছে খরচ, এক নজরে দেখা যাকঃ

রেস্তোরাঁয় ভ্যাট তিনগুণ

আগে যেখানে ১,০০০ টাকার খাবারে ৫০ টাকা ভ্যাট দিতে হত, এখন ৩০০ টাকার খাবারেই ৫০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। ফলে সাধারণ মানুষ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার ব্যাপারে ভাবতে বাধ্য হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা। লাইসেন্সবিহীন রাস্তার পাশে ফুড কার্টে নির্ভরশীল মানুষ তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। যারা পরিবার নিয়ে একটু ভালো রেস্টুরেন্টে সুন্দর পরিবেশে খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাথা ব্যাথার প্রধান কারন হয়ে দাঁড়াবে এই ভ্যাট। খবার শেষে যেই পরিমান ভ্যাট দিতে হবে, তাতে হয়তো একটি নতুন আইটেমের সমান দাম হয়ে যাবে।

মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যয় দ্বিগুণ

মোবাইল রিচার্জে ৩ শতাংশ ভ্যাট যোগ হওয়ায় ১০০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহক হাতে পাবেন মাত্র ৪৩.৭০ টাকা। ইন্টারনেটেও ১০ শতাংশ কর যোগ হওয়ায় ডিজিটাল সেবায় খরচ বাড়ছে। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ এখন ইন্টারনেট কলের উপর নির্ভরশীল। আগের ৩০০ টাকার ইন্টারনেট এখন কিনতে হবে ৩৩০ টাকায়।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রভাব

ফলমূল, বাদাম, এবং ফলের রসের ওপর ভ্যাট ও সারচার্জ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীর পথ্যের ওপর এই কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

জামাকাপড়ে অতিরিক্ত ভ্যাট

পোশাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। একটি ৩,০০০ টাকার পাঞ্জাবিতে এখন অতিরিক্ত ৪৫০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। দর্জির দোকানেও ভ্যাট ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

মিষ্টি, টিস্যু এবং অন্যান্য পণ্যে কর বৃদ্ধি

মিষ্টির দোকান, বিস্কুট, জুস, কেক, সসের মতো নিত্যপণ্যে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। টিস্যুর ভ্যাট দ্বিগুণ হয়ে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিস কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

ওষুধেও ভ্যাট বৃদ্ধি

দেশীয় ওষুধ ব্যবসায় ভ্যাট ২.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও এই পরিমাণ সামান্য, তবে সাধারণ মানুষের জন্য এটি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে প্রতিটা ঘরে ঘরে অসুস্থ রোগী, প্রতিটা পরিবারে মাসে নিদেনপক্ষে হাজার টাকার ঔষধ লাগে। কিছুদিন আগে প্রায় প্রতিটা ফার্মাসিটিউক্যালস তাদের ঔষধের দাম বাড়িয়েছে। জীবন রক্ষাকারী জরিরি ইন্সুলিনের দামও গড়ে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। তার উপর এই ভ্যাটের প্রয়োগে নিদেনপক্ষে প্রতি পরিবারে মাসে ৫০০ থেকে হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে শুধু জীবন রক্ষাকারী ঔষধ খাতে।

আমদানিকৃত পণ্যে করের বোঝা

সাবানে ১৫ শতাংশ সারচার্জ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ এবং ডিটারজেন্টে ১০ শতাংশ কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আসছে রোজার সময় ফলমূল ও ঈদে জামা-কাপড় কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কর বৃদ্ধির কারণে উৎসবের আনন্দে ছেদ পড়তে পারে।

১০০টিরও বেশি পণ্যে কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জনজীবনের কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, সেটি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Visited 32 times, 1 visit(s) today