গত ৩ মাসে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ১৫ শতাংশ

গত ৩ মাসে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ১৫ শতাংশ
শেয়ার করুন

দেশে ধারাবাহিকভাবে কমছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিনিয়োগে ১৫ শতাংশ কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমতে পারে। তাদের মতে, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করা এবং আস্থা অর্জন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

গত কয়েক বছর ধরেই দেশের অর্থনীতি নানা সংকটে ভুগছে। গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্বৃত্তের হামলা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সরকারও বিনিয়োগে স্থবিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিদেশি বিনিয়োগেও পড়েছে ভাটা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ডলারে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত তিন মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৫ শতাংশ।

গত অর্থবছর জাতীয় নির্বাচনের মাঝেও নেট বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। বিগত দশকে সর্বোচ্চ এফডিআই ছিল ২০১৫ সালে ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের সভাপতি জাবেদ আখতার বলেন, ‘এই মুহূর্তে নতুন বিনিয়োগ আসবে না। সবাই ভাবছে, বাংলাদেশে কী হবে? নতুন সরকার আসছে কি না, এসব অনিশ্চয়তা থাকবে। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে না।’

দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে গড়ে তোলা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সেবা খাতের বিস্তার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়।

জাবেদ আখতার আরও বলেন, ‘প্রফিট করার জন্য তাদের টাকা এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য তাদের জন্য দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা জরুরি। যত বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পারব, তত বেশি তারা বিনিয়োগে আস্থা পাবে।’

বিডার নির্বাহী সদস্য ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতগুলো বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমাদের পাঁচটি বিনিয়োগকারী জোনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসতে পারেন।’

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশের এফডিআই জিডিপির ১ শতাংশেরও কম, যা উন্নত দেশের লক্ষ্য পূরণের জন্য আরও বাড়াতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

Visited 15 times, 1 visit(s) today