স্থানীয় সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সেনা হেফাজতে হযরত আলী (৩০) নামের এক দুবাই প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
পরিবারের দাবি, অমানুষিক নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত হযরত আলী ভোলানগর গ্রামের মোহাম্মদ কুদ্দুসের পুত্র। তিনি দুবাই প্রবাসী এবং ছুটিতে দেশে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
পরিবারের অভিযোগ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ কর্মী মোহাম্মদ কুদ্দুস এবং তার দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা পুত্র আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। দেশে ছুটিতে আসার পরও মামলার হয়রানির ভয়ে পরিবার থেকে দূরে ছিলেন আলী। প্রবাসে ফিরে যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এই নির্মমতার শিকার হন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর তিনটি গাড়ি তার বাড়ি ঘেরাও করে। সেনাসদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বোনজামাই, স্কুলশিক্ষক আল-আমিন মাস্টারকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে হযরত আলী আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের সময় তিনি কাতর কণ্ঠে বলেন, “আমারে মাইরেন না, আমি মইরা যামু, আমারে পানি খাইতে দেন।” কিন্তু তার আর্তনাদেও নির্যাতন থামেনি।
নির্যাতনের পর হযরত আলীকে সেনাসদস্যরা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মরদেহ গ্রহণের জন্য ফোন করা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জবাব দেন, “জীবিত নিয়ে গেছেন, জীবিত ফেরত চাই। লাশ কেন নিবো?”
তবে পরিবারের অভিযোগ, লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ময়নাতদন্ত ছাড়াই জোরপূর্বক লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বোনজামাই আল-আমিন মাস্টার বলেন, “আমার শালা যদি দোষীও হয়, তবে তাকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনার পর এখনো সেনাবাহিনী বা বাঞ্ছারামপুর থানার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী এবং পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
