বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, জাতিসংঘের তদন্ত চায় যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, জাতিসংঘের তদন্ত চায় যুক্তরাজ্য
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক

৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর কথা জানাতে ব্রিটেনের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথেরিন ওয়েস্টকে চিঠি দেয় ভারতীয় একটি সংস্থা। তাদের সেই চিঠির জবাবে ক্যাথেরিন জানিয়েছেন, তার দেশ চায়, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করুক জাতিসংঘ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মন্ত্রী ক্যাথেরিন ওয়েস্ট দিল্লিভিত্তিক অধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপকে (আরআরএজি) আশ্বস্ত করেছেনে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তে যুক্তরাজ্য সমর্থন দেবে।

ক্যাথেরিন ওয়েস্ট বাংলাদেশ সফর করে গেছেন গত ১৬-১৭ই নভেম্বর। এই সফরের আগেই তার কাছে চিঠি লিখেছিল আরআরএজি।

সে সময় লেখা চিঠিতে সংস্থাটি তার কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানায়।

সংগঠনটি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি, আদিবাসী জনগণ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়গুলো তুলে ধরে এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারের একটি কার্যালয় স্থাপনের দাবি সমর্থনেরও আহ্বান জানায়।

পড়ুন: ইউনূস সরকারের কাজের সুস্পষ্ট রূপরেখা চায় যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ মন্ত্রী ক্যাথেরিন ওয়েস্ট আরআরএজির সেই চিঠির জবাব দেন গত ৪ঠা ডিসেম্বর।

বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানের পর তিনি জানান, বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন অনুসন্ধানমূলক তদন্তকার্য পরিচালনার উদ্যোগকে সমর্থন করে তার দেশ যুক্তরাজ্য।

আরআরএজি জানিয়েছে, চলতি বছর ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৭ জনের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ৭৪ জন সাংবাদিকের ওপর শারীরিকভাবে হামলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ সময়ে আদিবাসীদের ওপর হামলা হয়েছে, যাতে অন্তত ৪ জন আদিবাসী নিহত ও অন্তত ৭৫ জন আদিবাসী আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ১লা অক্টোবর থেকে ১৪২টি বাড়ি, দোকান এবং বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজারের বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন না বিরোধীপক্ষের কোনো ব্যক্তি।

দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর বিচার বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের ইনডেমনিটি জারির বিষয়টিও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

আরআরএজি ক্যাথেরিন ওয়েস্টকে অনুরোধ করেছে ২০শে আগস্ট পরবর্তী ঘটনাগুলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের আওতায় আনার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের জন্য যেন ইউনূস সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

Visited 45 times, 1 visit(s) today