ঢাবি’র পি জে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল হল: শোনা কথা আর বাস্তবতার ফারাক কতটুকু

ঢাবি’র পি জে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল হল: শোনা কথা আর বাস্তবতার ফারাক কতটুকু
শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বরাবরই তুঙ্গে। ১৯৬০-এর দশকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত এ হলটি বর্তমানে নানা গালগল্পের জন্ম দিয়েছে।

২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের নামে হলটির নামকরণ করা হয় স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য হলের সাথে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত এ ‘ইন্টারন্যাশনাল’ হল নিয়ে বিস্তারিত চলুন জেনে আসি-

শোনা কথাগুলো কতটা সত্য?

দুজন শিক্ষার্থীর বিয়ে করে থাকার প্রসঙ্গে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বিবাহিত শিক্ষার্থী মাত্রই যে এখানে থাকতে পারবেন, এটি পুরোপুরি সত্য নয়। এছাড়া এ হলে কেবল পুরুষ শিক্ষার্থীরাই থাকতে পারেন।

বিদেশি নারী শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আলাদা বন্দোবস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা থাকেন রোকেয়া, কুয়েত মৈত্রি বা সুফিয়া কামাল ইত্যাদি হলে।

ড. ইলিয়াস ব্যাখ্যা করেন, ‘দুজন শিক্ষার্থী বিয়ে করে থাকতে পারেন, তবে কিছু শর্তও রয়েছে। উভয়কেই ঢাবির শিক্ষার্থী হতে হবে এবং অবশ্যই বিদেশি হতে হবে। এ নিয়ম স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।’

তিনি আরও জানান, দুজন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকেই অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর অধিভুক্ত কোনো ইনস্টিটিউট অথবা সংযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে। অর্থাৎ, যদি একজন ঢাবির শিক্ষার্থী হন এবং অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসা হন, তাহলে তারা হলের আবাসিক সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, দুজন বিদেশি হলেও যদি একজন শিক্ষার্থী না হন, তাহলে তারা হলে থাকার অধিকার পাবেন না।

জানা যায়, বিদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিবাহিত শিক্ষকদের জন্যও এখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক শিক্ষক পরিবার নিয়েও এখানে থাকেন বলে প্রচলিত কথা রয়েছে।

হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল্লাহ ইবনে হাসান জানান, ‘প্রথমে আমরা ব্যাচেলর শিক্ষক হিসেবে থাকার অনুমতি দিই। পরে তারা বিয়ে করলে স্ত্রী নিয়ে থাকতে পারেন, যা সিন্ডিকেট অনুমোদিত।’

তিনি আরও জানান, এখানে শিক্ষকদের জন্য রুম পাওয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়াল মেনে চলতে হয়। অর্থাৎ যার সিরিয়াল আগে থাকবে, তিনি আগে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ পান।

হলে মোট ১১৬টি কক্ষ আছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য ৫৩টি, অফিসারদের জন্য ৩টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০টি কক্ষ। এছাড়া আরও অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী হলের সঙ্গে সংযুক্ত, যারা বাইরে থাকেন এবং অনাবাসিক তালিকাভুক্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত মেডিকেলসহ অন্যান্য ইন্সটিটিউটের বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে থাকার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ঢাবির শিক্ষার্থীরা সিট পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।

বর্তমানে এ হলে ঢাবির ২৮ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য ইন্সটিটিউটের। ঢাবির শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়ার পর অবশিষ্ট সিট থাকলে অন্যদের থাকা সম্ভব। এছাড়া অ্যাটাচড মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও সিট খালি থাকার সাপেক্ষে এখানে থাকতে পারেন।

অন্য হলের চেয়ে পার্থক্য যেখানে

অন্যান্য হলের তুলনায় ইন্টারন্যাশনাল হল রাজনীতিমুক্ত। এখানে গেস্টরুম বা গণরুমের মতো কোনো সমস্যা নেই। তবে কিছু শিক্ষার্থী হলের কড়াকড়ি নিয়ে অসন্তুষ্ট। রাত ১২টার পর বের হতে না পারা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে একই হল ভাগাভাগি করা তাদের জন্য অসুবিধাজনক বলে জানান নেপালি শিক্ষার্থী ওয়াসিম আনসারি।

আরেকটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষকদের জন্যে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি সুবিধা পান না, সেটা শিক্ষকরা নিজেরাই শুধুমাত্র ব্যবহার করেন।

শিক্ষার্থীরা চান, ইন্টারন্যাশনাল হলের ইতিবাচক দিকগুলো অন্যান্য হলেও বাস্তবায়ন হোক। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ পল্লব বলেন, “এ হলের ডাইনিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব হলে কার্যকর করলে আমাদের জন্য ভালো হবে।”

Visited 13 times, 1 visit(s) today