চাঁদার দাবিতে উত্তরায় ১১ বছরের শিশুর নামে মামলা, বাড়িতে হামলা!

চাঁদার দাবিতে উত্তরায় ১১ বছরের শিশুর নামে মামলা, বাড়িতে হামলা!
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ১১ বছরের এক শিশুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী হামিদ মোল্লার শিশু সন্তান সাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে তার প্রকৃত বয়স ১১ বছর হলেও তা এজাহারে ১৯ বছর দেখানো হয়েছে। এমনকি পরিবারের বাড়িতে হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অপরাধেরও অভিযোগ উঠেছে।

সাদের পরিবারের দাবি, এই মামলার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী জিএস স্বপনের হাত রয়েছে। হামিদ মোল্লার ওপর একাধিক মামলা দায়ের এবং চাঁদা দাবি করেও যখন স্বপন তার উদ্দেশ্যে সফল হননি, তখন তিনি তাদের বাড়িতে গুলি চালিয়ে ভীতি প্রদর্শন করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশু সাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করার মাধ্যমে স্বপন পুরো পরিবারকে হয়রানি করছেন।

এলাকাবাসীর বক্তব্য থেকে জানা যায়, ৫ই আগস্টের পর থেকে জিএস স্বপন এলাকায় বিভিন্ন কৌশলে মামলার মাধ্যমে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। তিনি টাকার লোভ দেখিয়ে হতদরিদ্র ও অশিক্ষিত লোকজনকে দিয়ে ভুয়া অভিযোগে মামলা করান এবং টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা না পেলে হুমকি প্রদান এবং বাড়িতে হামলার মতো কার্যকলাপে লিপ্ত হন তিনি।

একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, স্বপন এক ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোর বাড়িতে আমি আগুন ধরিয়ে দেবো।” এই রেকর্ড প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে।

তবে জিএস স্বপন তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি কেন চাঁদা চাইবো? যিনি আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন, তিনি নিজেই আওয়ামী লীগের নেতা, তার বাড়িতে বৈষম্যবিরোধীরা হামলা চালিয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করবে।

উত্তরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এজাহার না নেওয়ার আমাদের কোনো সুযোগ ছিল না। তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হলে আমরা তাদের অব্যাহতি দেবো।”

তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ বিন বজলুর রহমান বলেছেন, পুলিশের উচিত ছিল অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা এবং তারপর মামলা গ্রহণ করা।

তিনি আরও বলেন, “আইনে মিথ্যা মামলার জন্য বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর জন্য ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।”

Visited 30 times, 1 visit(s) today