সংবাদ প্রতিবেদন
দেশজুড়ে আলোচনা একুশে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে অভিযুক্তদের সবাইকে গণহারে খালাস দেওয়ার ঘটনা নিয়ে। এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সবাই আজ থেকে অভিযোগমুক্ত। বিচারিক আদালতের রায়কে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
২০১৮ সালের ১০ই অক্টোবর এই মামলার রায়ে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদানের পাশাপাশি আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় বিচারিক আদালত। সেই সঙ্গে হামলার সাথে জড়িত ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০০৪ সালের এই ভয়াবহ হামলা নিয়ে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক মন্তব্য এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পর্যবেক্ষক মহল একে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসের রাজনীতি হিসেবে দেখলেও বিএনপি নেতারা এটিকে দুর্ঘটনা বা নাটক মনে করেন। এমনকি খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে কে গ্রেনেড মারবে, তিনি নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে ফাটিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে।
বিরোধীদলে থাকা অবস্থাতেও বিএনপির নেতারা প্রায়ই এই হামলা নিয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন, যা সভ্যতা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের একটি মন্তব্য। ২০১৭ সালের একুশে আগস্ট হামলা নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অনেক দেশের রাজনীতিতে এরকম দুর্ঘটনা ঘটে। পুরনো ইতিহাস নিয়ে এতো আলোচনার কিছু নেই। এটা সিম্পল ব্যাপার। এ নিয়ে এত কান্নাকাটিরও কিছু নাই।
তিনি আরও বলেন, এগুলো কোনো ঘটনাই না, এটা দুর্ঘটনা। জাতির জীবনে বহু দুর্ঘটনা ঘটে। এটা নিয়ে কোনো জাতি সারাজীবন কান্নাকাটি করেনি। এগুলো কোনো বিষয়ই না এখন। বর্তমান প্রেক্ষপটে দাঁড়িয়ে এগুলো কোন বিষয়বস্তু নয়।
তার এমন মন্তব্য নিয়ে সেসময় ব্যাপক সমালোচনা হয় রাজনৈতিক মহলে। তবুও খন্দকার মোশাররফের বক্তব্যের সাফাই গেয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন বিএনপির অনেক নেতাই।
সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির বলেন, ২১শে আগস্টের দায় এড়াতে পারে না তৎকালীন বিএনপির সরকার। তাদের ঐ সময় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল কিন্তু তারা সেটা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ব্যর্থতার জন্য দায় দায়িত্ব নিতেই হবে। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক বিভক্তির পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছে এই হামলা।
২০০৪ সালে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে রক্ত, লাশে নারকীয় অবস্থায় পরিণত হয় সমাবেশস্থল। শহিদ হন আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা-কর্মী। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতে। আহত হন ৫’শর বেশি নেতা-কর্মী, যারা এখনও গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। পঙ্গুত্ববরণ করে অমানবিক জীবনযাপন যাপন করছেন অসংখ্য আহত ব্যক্তি।
আজকের রায়ের পর এই হতাহতদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি এখনো।
