সংবাদ প্রতিবেদন
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজধানীর অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছি স্নাইপার রাইফেল। আহতদের অস্ত্রোপচারের পর পাওয়া বুলেটের নমুনা পরীক্ষা করে এ কথা বলেছেন সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। এতে গুরুতর হয়েছে জখম, গুলিবিদ্ধ হওয়াদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে।
বেসরকারি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
প্রতিবেদনে, রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ব্যাপারে চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। দেখা যায়, মাথায় গুলি লেগে মস্তিস্কের ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে অনেকের। এর শিকার বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে, কেউ বেঁচে গেছেন প্রায় অলৌকিকভাবে, বলছেন কর্ত্যবরত চিকিৎসকরা।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. চৌধুরী মুহাম্মদ ফুয়াদ গালিব বলেন, এখানে ভর্তি অধিকাংশেরই গুলি লেগেছে ঘাড়ে ও মাথায়। অনেকের আবার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে সেই বুলেট। মাথায় স্নাইপার রাইফেলের গুলিতে অধিকাংশ রোগীকেই বাঁচানো যায়নি।
অনেক চেষ্টার পরও কারও কারও মাথা থেকে গুলি বের করা যায়নি। যদিও বা কারও কারও মাথা থেকে গুলি বের করা গেছে, তার সংখ্যা একবারে কম, বলেন তিনি।
গুলিবিদ্ধের অস্ত্রোপচার করেছেন এমন এক নিউরো সার্জন ডা. মো. সামসুল আরেফিন জানালেন যতগুলো বুলেট তিনি বের করেছেন সেগুলো সাধারণ বুলেটের চেয়ে আকারে বেশ বড়।
সেসব গুলির ছবি পর্যালোচনা করে সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞ আব্দুল হক বলছেন, এগুলো স্নাইপার রাইফেল থেকে ছোড়া এবং প্রাণঘাতী।
সংবাদ প্রতিবেদনে গুলির ছবিগুলো অনুসারে যেসব স্নাইপার রাইফেলের ছবি দেখানো হয়েছে, সেসব দেখে বোঝা যায়, এসব রাইফেল অত্যন্ত ‘সফিস্টিকেটেড’ অস্ত্র।
প্রতিবেদনের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই দাবি করেছেন, এসব অস্ত্র উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে এসব অস্ত্র ব্যবহার হয় না।
তাই প্রশ্ন উঠেছে, কারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে এই আন্দোলনে মানুষের পূঞ্জীভূত ক্ষোভকে আরও উসকে দিতে? এই আততায়ী কারা? ৫ই আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার সময়ও স্নাইপার রাইফেলের ছোড়া গুলি লেগে গুরুতর আহত হয়েছিলেন আব্দুল্লাহ। যিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে ১৭ই নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
একদিন এই স্নাইপারদের পরিচয় নিশ্চয় জানা যাবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।
