নিজ বারান্দায় গুলিতে নিহত গৃহবধূ, কোথায় আজ নিরাপত্তা!

নিজ বারান্দায় গুলিতে নিহত গৃহবধূ, কোথায় আজ নিরাপত্তা!
শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:

রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাউনিয়া বাঁধে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গৃহবধূ আয়েশা আক্তার (৩৫) নিহত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি তার মাথায় লাগে, ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই নিরীহ নারীর। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এলাকায় মাদক কারবারিদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। তবে, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি গিয়ে লাগে তিন তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা আয়েশার মাথায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে ২৫-৩০ জনের একদল সন্ত্রাসী মামুন নামের এক যুবককে মারধর করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে কয়েকজন স্থানীয় নারী-পুরুষ এগিয়ে গেলে, সন্ত্রাসীরা মামুনকে লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। সেই গুলি লাগে তিনতলার ব্যালকনিতে থাকা আয়েশার মাথায়। এতে নিজের ঘরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আয়েশা।

এলাকায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত আয়েশা দুই সন্তানের জননী, তার দেড় ও তিন বছর বয়সী দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। এই শিশুদের ভবিষ্যত এখন গভীর সংকটে। এলাকাবাসী পুলিশের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নারী প্রতিবেদককে বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো নিরীহ মানুষদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিরীহ এক নারী মারা গেল, আর রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টিকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

তবে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের ধরতে ব্লক রেইডসহ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

এই ঘটনা রাজধানীতে অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বাসিন্দারা দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এছাড়া তারা নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি করেছেন।

রাজধানীর সাধারণ নাগরিকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, তাদের শহর কি আদৌ নিরাপদ? প্রতিদিন সন্ত্রাসী হামলা, মাদক কারবারি ও সহিংসতার মতো ঘটনা তাদের স্বাভাবিক জীবনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। শহরের এই ক্রমবর্ধমান অপরাধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Visited 27 times, 1 visit(s) today