নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথিকৃত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে জিঘাংসাবশত নিষিদ্ধের ঘোষণার পর এবার এলো নতুন নির্দেশনা।
নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন সংগঠনের সদস্যদের সরকারি কাজে যুক্ত করা থেকে বিরত রাখার বিষয় তুলে ধরে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকেও তাদের বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা এই উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন।
নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া করা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন-
নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো সদস্য প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত হতে পারবে না। যেসব নিয়োগ এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে সেখান থেকেও তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। পরবর্তী সার্কুলারে শুন্যপদগুলোতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে আসন্ন সার্কুলার গুলোতে সংখ্যাগত দিক থেকে অধিক সংখ্যক প্রার্থীর নিয়োগের সুযোগ তৈরী হবে। ঘুষ দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর। নিয়োগের জন্য ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।”
উল্লেখ্য, জুলাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মেটিক্যুলাসলি ডিজাইনড প্ল্যানিংয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া ‘বৈষম্যবিরোধী’ ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার ‘অভিযোগ’ তুলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বুধবার ‘নিষিদ্ধ’ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আওয়ামী লীগের এই ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলন চলাকালে ‘হত্যা’ ও অসংখ্য মানুষের ‘জীবন বিপন্ন’ করা এবং বিভিন্ন সময় ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা।
২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিল এবং উক্ত আইনের তফসিল-২ এ ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামীয় ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করিল।”
প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ের ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপের বিষয়ে তুলে ধরা হয়।
ইতিমধ্যে গণমামলা, সন্ত্রাসী হামলায় সারাদেশে ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, ছাত্রলীগের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারছেন না, পরীক্ষার হল থেকে তাদের বের করে বাইরে নিয়ে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। এরপর যেকোনো একটি মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। সারাদেশে এই চিত্র চলছে ৫ই আগস্টের পর থেকেই।
এভাবে তাদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করে এবং চাকরির পথ রুদ্ধ করার যে চর্চা চালাচ্ছে ড. ইউনূসের শিক্ষার্থী বাহিনী, তাকে ‘ফ্যাসিবাদ’-আখ্যা দিয়েছে সচেতন মহল। যদিও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর, বুয়েটের ছাত্রলীগ কর্মী দীপকে হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী সংগঠন ছাত্রশিবির, সনিকে হত্যাকারী ছাত্রদলকে নিষিদ্ধকরণ কিংবা তারা চাকরি করতে পারবে কিনা, এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি আসিফ মাহমুদের কাছ থেকে।
