আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটকদের ভুল তথ্য এজাহারে: পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতের ভর্ৎসনা সত্ত্বেও রিমান্ড মঞ্জুর

আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটকদের ভুল তথ্য এজাহারে: পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতের ভর্ৎসনা সত্ত্বেও রিমান্ড মঞ্জুর
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তবে রিমান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও গ্রেপ্তারের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ না করায় তাকে ভর্ৎসনা করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১৫ আসামি হলেন নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সময়ে ওই ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ১৭ই সেপ্টেম্বর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন।

বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিতে আসামিদের পক্ষে ওবায়দুর রহমান, লিটন মিয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আসামি আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রলীগের নেতা। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কিসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা-তা লিখে পাঠিয়ে দেন।”

এ সময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসামিদের গ্রেপ্তারের তারিখ জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা ‘বিভিন্ন তারিখে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান।

নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করায় বিচারক বলেন, “কবে গ্রেপ্তার, নির্দিষ্ট করে লেখা যায় না? গড় গড়িয়ে রিমান্ড চান, আর গড় গড়িয়ে রিমান্ডে নেন। রিমান্ডে নিয়ে পোলাও খাওয়ান।”

শুনানিতে আরও এক আসামি সাইফুল ইসলামের গ্রেপ্তার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। তার আইনজীবী আদালতকে জানান, সাইফুল ইসলাম আলোচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের স্ত্রী তিশার বাবা।

আদালত সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চান, তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উত্তর মুগদা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান।

পরে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে একই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও মুগদা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। তবে গ্রেপ্তারের তারিখ জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিযানে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এতে তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তোলেন বিচারক। তিনি বলেন, “কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন। হাজার টাকা দিলে মিছিলে মানুষ পাওয়া যায়। গোড়ায় যান না কেন? সবকিছুকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেন কেন? আবেদন লিখতে ভুল হয়ে যায়। এরকম ভুল হলে কীভাবে মিছিল ঠেকাবেন।”

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ওই দিনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রিমান্ডে নেওয়া ১৫ জনকে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া নথিতে অন্তত একজন আসামির রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উল্লেখ এবং অন্য একজনের গ্রেপ্তারের তারিখ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করার বিষয়টি আদালতের সামনে উঠে আসে।

এসব বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার পরও ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

Visited 19 times, 1 visit(s) today