❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) মারা গেছেন।
গতকাল ২৬শে সেপ্টেম্বর, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খাইরুল আমিন রুহুল সরকার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের মৃত উসমান গণির ছেলে। তিনি কেন্দ্রীয় দলিল লেখক সমিতির সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং কটিয়াদী দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বড় ভাই নুরুল আমিন বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন দিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাননি। শনিবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে
পরিবারের দাবি, সেখানে আইনি জটিলতায় কয়েক ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একপর্যায়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা খাইরুল আমিনের ওপর কারাগারে অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ তুলে একে মৃত্যুর নেপথ্য কারণ বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৮ই সেপ্টেম্বর দুপুরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার নাশির আহমেদের দাবি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় খাইরুল আমিন রুহুল সরকারকে প্রথমে শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
