গভীর রাতে বিএনপির নেতার নেতৃত্বে এনজিও ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে টিকার সামগ্রীসহ কোটি টাকার মাল লুটপাট

গভীর রাতে বিএনপির নেতার নেতৃত্বে এনজিও ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে টিকার সামগ্রীসহ কোটি টাকার মাল লুটপাট
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ এর কার্যালয় রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, হামলার সময় অফিসের জিনিসপত্রের পাশাপাশি টিকাদানের বিপুল পরিমাণ সামগ্রীও লুট করা হয়। এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।

মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার পর হামলাকারীরা জমির সামনে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিঃ’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলে যায় বিএনপির নেতারা।

মিরপুরের এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, জমিটি প্রায় ১০ কাঠার। সেটি নিয়ে বিরোধ থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি হামলাকারীদের শাস্তির দাবি করে বলেন, মিরপুর ১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

নাসরিন আখতার আরও বলেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সেন্টারে যা ঘটেছে, তা সাধারণ ডাকাতি বা হামলার ঘটনা নয়; তার ভাষায়, এটি ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম। হামলায় কেন্দ্রটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তার অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জনের বেশি লোক নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে দেড় কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা সেবাকার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হানিফ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Visited 36 times, 1 visit(s) today