বিশেষ প্রতিবেদক
মাদারীপুরে গত ১৭ দিনে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা মাদ্রাসা ও মসজিদ-সম্পর্কিত স্থানে ঘটেছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—কেন এ ধরনের বিস্ফোরণ শুধু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসস্থানেই ঘটছে? এর সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদারের থাকার ঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের টিনের বেড়া উড়ে যায়। তবে কেউ হতাহত হননি। ইমাম চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ঢাকায় আছেন। মসজিদের পাশেই তার থাকার ঘর। ঘরের চাবি মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ তিনজনের কাছে ছিল। শব্দ শুনে স্থানীয়রা মসজিদের সামনে ভিড় জমান। সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়। আর ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণে পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হন।
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও পরিত্যক্ত বাসাবাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এগুলোর সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত চলছে।’ তিনি আরও বলেন, মাদারীপুরে ঘরে ঘরে ককটেল বোমা তৈরির প্রচলন রয়েছে। নিজেদের প্রতিরক্ষা, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, সামাজিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার বা শক্তি প্রদর্শনের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণগুলো বিরোধ বা আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। অন্য কোনো বিষয় এখানে নেই।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী ঘটনাগুলো স্থানীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ফসল হলেও স্থানীয় মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘরবাড়িতেই এ ধরনের বিস্ফোরণ বেশি ঘটছে? তদন্তের ফল কী দাঁড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়।
