বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মারামারির ঘটনায় আর্জেন্টিনার তিন জনের বিরুদ্ধে ফিফার মামলা

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মারামারির ঘটনায় আর্জেন্টিনার তিন জনের বিরুদ্ধে ফিফার মামলা
শেয়ার করুন

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হামলার মামলা করেছে ফিফা।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনের আনন্দকে ম্লান করে দেওয়া ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর এক সপ্তাহ ধরে চলা তদন্ত শেষে ফিফা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, টুর্নামেন্টের ‘কয়েকটি ম্যাচে’ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও বেশ কিছু কার্যধারা শুরু করা হয়েছে।

এর বাইরে, অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভিযোগে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে পারেদেস, মোলিনা এবং আয়ালার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর, যা গাবি, রদ্রি এবং দানি ওলমোর সঙ্গে মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত। দোষী প্রমাণিত হলে এই তিন জনের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিফার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিযুক্তদের এখন তাদের নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি যথাযথ সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।’

রাজনৈতিক বার্তা এবং অন্যান্য অভিযোগ

এএফএ-র বিরুদ্ধে চলা কার্যধারায় স্লোগান ও অনুপযুক্ত বার্তার বিষয়টিও রয়েছে। এর মধ্যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের (যা আর্জেন্টিনা ‘ইসলাস মালভিনাস’ হিসেবে দাবি করে এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে) রাজনৈতিক প্রসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা মাঠে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন, যাতে লেখা ছিল ‘লাশ মালভিনাস সোন আর্জেন্টিনাস’ (Las Malvinas son Argentinas), যার বাংলা অর্থ ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার আগে তারা ব্যানারটি মাঠে ফেলে যান। এছাড়া, বর্ণবাদী অপমানের অভিযোগ নিয়েও এএফএ তদন্তের মুখে পড়েছে।

ফিফার বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে, ‘ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ফিফা শৃঙ্খলা বিধিমালার অনুচ্ছেদ ১৩ এর ধারা ২(সি) (ক্রীড়া ইভেন্টকে অক্রীড়সুলভ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা), অনুচ্ছেদ ১৪ এর ধারা ৫ (দলীয় অসদাচরণ), অনুচ্ছেদ ১৫ (বৈষম্য এবং বর্ণবাদী অপপ্রয়োগ) এবং অনুচ্ছেদ ১৭ (ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা) সম্ভাব্য লঙ্ঘনের জন্য কার্যধারা শুরু করেছে। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দলের একাধিক ম্যাচে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু না করা, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলতে ব্যর্থতা, দল ও দর্শকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের ঘটনার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দল ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও তা হাতছাড়া করে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today