সরকারি ঘর ও কার্ড দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা লোপাট: বিএনপি নেতাকে জনতার উত্তম-মধ্যম

সরকারি ঘর ও কার্ড দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা লোপাট: বিএনপি নেতাকে জনতার উত্তম-মধ্যম
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ভিজিডি কার্ড এবং ঘর পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত হওয়ার পর অবশেষে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। অভিযুক্ত নেতাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ জনতা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামে। অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে ভাঙ্গুড়া এলাকার সরল-সোজা মানুষের ওপর আস্থার জাল বোনেন সোহেল রানা। দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভিজিডি কার্ড, সরকারি খাস জমিতে ঘর এবং সেচের জন্য পানির পাম্প পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ জানান, সরকারি ও কম মূল্যের চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পার হলেও তিনি কোনো কার্ড পাননি। অপর এক ভুক্তভোগী তায়জাল হোসেন অভিযোগ করেন, মাথা গোঁজার এক টুকরো সরকারি ঘর পাওয়ার আশায় তিনি জীবনের শেষ সম্বল ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন এই বিএনপি নেতার হাতে। কিন্তু ঘর তো দূরে থাক, টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো হুমকি দেওয়া হতো।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় এবং টাকা ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হঠাৎ সোহেল রানাকে দেখতে পান কয়েকজন ভুক্তভোগী। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

সেখানে উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দেয় এবং পরবর্তীতে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় রাতেই প্রায় ৩০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে এই ঘটনার পর এক নাটকীয় মোড় নেয় অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী শিখার বক্তব্য। স্বামীর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় না নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে উল্টো প্রশ্ন তুলে বলেন— “আমার স্বামী তো একজন প্রতারক হিসেবেই এলাকায় পরিচিত, মানুষ কেন জেনে-বুঝে তাকে টাকা দিতে গেল?”

তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন যে, মারধরের কারণে এখন বাধ্য হয়েই মানুষের টাকাগুলো পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম জানান, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে ভুক্তভোগীদের উপজেলা প্রশাসনের কাছেও একটি অনুলিপি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষেই এই কথিত রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today