আগের ম্যাচগুলোর চেয়ে এবার অনেক ভালো খেলেও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। শনিবার মারগাওয়ের পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে গেছে তারা।
লাল-সবুজের মেয়েদের সামনে সুযোগ ছিল ভারতের বাইরে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনবার সাফ জেতার। ভারত প্রথম পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, পরের দুই আসরে ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত রানার্স-আপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাদের।
এই টুর্নামেন্টের পথটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন ও সানজিদা আক্তারের মতো আগেরবারের অভিজ্ঞ তারকাদের ছাড়াই দলটিকে গোয়ায় যেতে হয়েছিল। এর মধ্যে টুর্নামেন্ট চলাকালীন ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মায়ের হঠাৎ মারা যাওয়ার ঘটনাটি দলের জন্য বড় একটি ধাক্কা ছিল। নেপালের সঙ্গে সেমিফাইনালের আগে এই ঘটনা খেলোয়াড়দের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
খেলার মাঠেও দলটির পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল না। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ৪-২ ব্যবধানে কোনোমতে জেতার পর, গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। এমনকি ফাইনালে উঠলেও নেপালের সঙ্গে ম্যাচটিতে তাদের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি।
তবুও পিটার বাটলারের দল ফাইনালের এই বড় ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করেছিল।
খেলার প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশ গোল দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন দুজনেই ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন। বাংলাদেশ মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও, সমানতালে লড়াই করা ভারতও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে তহুরা আবারও গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর খেলার ধারার বিপরীতে ৪১ মিনিটে গোল পেয়ে যায় ভারত। বাম দিক থেকে আসা একটি আক্রমণে পিয়ানি স্যাক্সার শট সুরভী আকতার আরফিনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
বাংলাদেশ অবশ্য দমে যায়নি। তিন মিনিট পরেই আনিকা সিদ্দিকী সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ভারতীয় গোলরক্ষক পান্থোই চানু সেটি আটকে দেন। তবে বিরতির ঠিক আগে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তহুরার পাস থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার শটে বল জালে পাঠান ঋতুপর্ণা চাকমা।
কিন্তু বিরতির পর খেলা শুরু হতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় হাফের প্রথম মিনিটেই বাম দিক থেকে আসা একটি ক্রসে চমৎকার হেডে গোল করে ভারতকে আবার এগিয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় সানফিদা নংরুম।
বাংলাদেশ এরপরও সমতায় ফেরার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। ৫১ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী মাঠে নতুন খেলোয়াড় নামানোর পর স্বাগতিকরা ধীরে ধীরে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
অবশেষে ৮১ মিনিটে লিন্ডা কম নিখুঁত শটে গোল করলে বাংলাদেশের ম্যাচটি বাঁচানোর সব আশা শেষ হয়ে যায় এবং ভারতের জয় নিশ্চিত হয়।
