রাজস্ব আদায়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি, অথচ ব্যাবসায়ী অর্থমন্ত্রীর ৬ লক্ষ কোটি টাকার ‘উচ্চভিলাসী’ লক্ষ্য!

 রাজস্ব আদায়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি, অথচ ব্যাবসায়ী অর্থমন্ত্রীর ৬ লক্ষ কোটি টাকার ‘উচ্চভিলাসী’ লক্ষ্য!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ঢাকা, ২২ এপ্রিল: চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগামী তিন মাসে এই ঘাটতি প্রথমবারের মতো ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা — যা অনেক অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে ‘অত্যধিক উচ্চভিলাসী’ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছর (২০২৫) একই সময়ে ৯ মাসে এই ঘাটতির পরিমান ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকা, ২০২৪ সালের ৯ মাসে ২১ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯ মাসের ঘাটতি ছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আমলে ঘাটতি শেখ হাসিনা আমলের প্রায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, নিম্ন আয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতির কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন — যখন বাস্তবে রাজস্ব আদায়ে এত বড় ঘাটতি চলছে, তখন পরবর্তী অর্থবছরে ৬ লক্ষ কোটি টাকার এত বড় লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত?

 

সরকারের একটি অংশ অবশ্য বলছে, নতুন সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন এবং কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে ব্যবসায়ী মহল থেকে ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা এসেছে যে, অতিরিক্ত চাপ দিলে ব্যবসা আরও সংকুচিত হতে পারে।

 

একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “অনলাইনে দল চালানো আর রাষ্ট্র পরিচালনা এক নয়। কাগজে-কলমে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রাখা সহজ, কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতির গতি, বিনিয়োগ ও করদাতাদের সক্ষমতা বিবেচনা না করে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ঘাটতি আরও বাড়বে।”

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়ের কৌশল কী হবে, সেটি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের মধ্যে আলোচনা চলছে। জনগণের প্রশ্ন এখন একটাই — ঘাটতির এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার বাস্তব পথ কী, নাকি শুধু নতুন নতুন লক্ষ্যের ফুলঝুরি?

 

Visited 10 times, 1 visit(s) today