বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে স্পোর্টিং লিসবনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। নিজেদের মাঠে বেশ অস্বস্তিতে থাকলেও দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানের অগ্রগামিতায় শেষ চারে পা রাখল মিকেল আর্তেতার দল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্সেনাল তাদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি। তবে প্রথম লেগের সেই সামান্য লিডই শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষা করেছে। স্পোর্টিং বেশ কয়েকবার সুযোগ পেলেও আর্সেনালকে বড় কোনো মাসুল দিতে হয়নি।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গানার্সদের লড়তে হবে আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে, যারা আগের রাতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। গত অক্টোবরে গ্রুপ পর্বে এই আতলেতিকোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্সেনাল, তবে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে যেতে হলে তাদের খেলার মান অনেক উন্নত করতে হবে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠল আর্সেনাল। তবে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে হার আর মাত্র একটি জয়—দলটির বর্তমান ফর্ম বেশ দুশ্চিন্তার জন্ম দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আর্তেতা তাঁর শিষ্যদের ‘আগুন’ ও ‘নির্ভীক’ হয়ে খেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মাঠের খেলায় তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। বরং আক্রমণভাগে সমন্বয় ও সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট ছিল।
২০০৪ সালের পর আর্সেনাল আর প্রিমিয়ার লিগ জেতেনি, আর চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা তো তাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে কখনোই ওঠেনি। এবার লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে দুটিরই সুযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের ভুলগুলো আর্তেতার দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে লিগ কাপের ফাইনাল এবং সাউদাম্পটনের মতো দলের কাছে এফএ কাপে হার পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে।
এর ওপর গত শনিবার লিগে বোর্নমাউথের কাছে ২-১ গোলের ধাক্কা আর্তেতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বর্তমানে সিটির চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও সিটি একটি ম্যাচ কম খেলেছে। আগামী রবিবারই সিটির মাঠে আর্সেনালের একটি বড় পরীক্ষা। গত তিন মৌসুম ধরেই রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের, যার মধ্যে দুইবার সিটির কাছে লিড হারিয়ে শিরোপা খুইয়েছে গানার্সরা। ফলে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির সমর্থকদের মধ্যে আবারও সেই পুরনো স্নায়ুচাপ বাড়তে শুরু করেছে।
