কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা: নতুন নাকি পুরনো উদ্যোগ?

কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা: নতুন নাকি পুরনো উদ্যোগ?
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
আগামী পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আগে থেকেই ‘স্মার্ট কৃষি কার্ড’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা, ডিজেল কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা, সার ও বীজসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালে কৃষকদের জন্য এই ধরনের কৃষি কার্ডের প্রচলন শুরু করেছিল। ফলে নতুন করে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- এটি কি সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ, নাকি পূর্বের প্রকল্পের ধারাবাহিকতা।

নীতিনির্ধারণী মহলের কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি আগে থেকে চালু থাকা সুবিধার সঙ্গে মিল রেখে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরা সেটিকে নতুন উদ্যোগ হিসেবে নাও দেখতে পারেন। এতে সরকারের নীতিগত যোগাযোগে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে, সমালোচকদের একটি অংশের দাবি- সরকারি ওয়েবসাইট থেকে অনেক পুরনো তথ্য অপসারণ করা হলেও বাস্তবে মানুষের হাতে থাকা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্ড ও সুবিধা এখনো চালু রয়েছে।

এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের মতে, এসব কর্মসূচির অনেকগুলোই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই চালু ছিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি সময়কে সাধারণত ‘হানিমুন পিরিয়ড’ হিসেবে দেখা হয়। যখন নীতিগত অনেক সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে কম সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা ও নতুনত্ব নিয়ে মূল্যায়ন বাড়ে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আরও বলেন, নতুন সরকার যদি পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পগুলো সামান্য পরিবর্তন করে বাস্তবায়ন করে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের সুবিধা বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইউরোপের উন্নত দেশ নেদারল্যান্ডসের মডেল অনুসরণ করে ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ (ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০) প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, নদী ভাঙন রোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগর ও গ্রামীণ নিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। এতে ২০৩০, ২০৪১ এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সামগ্রিকভাবে, কৃষক কার্ড কর্মসূচি নতুন আঙ্গিকে চালু হলে তার বাস্তব সুবিধা এবং পূর্ববর্তী উদ্যোগের সঙ্গে পার্থক্য কী—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

Visited 18 times, 1 visit(s) today