নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই রদবদল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলে সালাহউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি সরকারের ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’ বা সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আলোচিত। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল ও ক্ষমতাধর পদে থাকায় তার প্রভাব ছিল অপরিসীম। আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তার নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল বলে মনে করা হয়। সংসদে বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবর্তে সালাউদ্দিন আহমেদকে বেশী সক্রিয় ও কন্ঠস্বর হিসাবে দেখা গেছে বিগত দিনগুলোতে। এমন একজনকে এলজিআরডি—যে মন্ত্রণালয়কে অনেকের চোখে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা ‘কম ক্ষমতাধর’ বলে দেখা হয়—সেখানে পাঠানোকে অনেকেই পদাবনতি হিসেবে দেখছেন।
প্রশ্ন উঠছে—এটা কি তার ব্যর্থতার ফল? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় কি তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে? নাকি এটি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি সরকারের অভ্যন্তরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রিসভায় প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সালাহউদ্দিনের অত্যধিক প্রভাব অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলছে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে তুলনামূলক কম সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে ক্ষমতার ব্যালেন্স আনা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।
অন্যদিকে, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসাও নজর কেড়েছে। তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এসে এখন দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ্যানি দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পরিচিত এবং তার এই পদোন্নতি-সদৃশ পদক্ষেপকে কেউ কেউ দলীয় ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছেন।
সরকারিভাবে এখনো এই রদবদলের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছে—এটি কি সত্যিই সালাহউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার স্বীকৃতি, নাকি বিএনপি সরকারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের ফল? ছায়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত একজন নেতাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া কি সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক, নাকি নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত?
বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্টতা আসার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও জনগণ।
