জুলাই হত্যাকাণ্ডে ৭.৬২ মিমি বুলেট রহস্য: পুনঃ তদন্তের দাবি বিদায়ী উপদেষ্টা ব্রি. জেনারেল সাখাওয়াতের

জুলাই হত্যাকাণ্ডে ৭.৬২ মিমি বুলেট রহস্য: পুনঃ তদন্তের দাবি বিদায়ী উপদেষ্টা ব্রি. জেনারেল সাখাওয়াতের
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় নিহতদের শরীরে ৭.৬২ মিমি বুলেটের আঘাতের প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও কেন তদন্ত হয়নি—এই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তিনি উপদেষ্টাদের মিটিংয়ে এর ম্যাসিভ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন কিন্তু তা হয়নি।

তিনি এখনও মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত জরুরি এবং বর্তমান সরকার এটি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা সরাসরি প্রশ্ন করেন—জুলাইয়ে অনেক নিহতের শরীরে ৭.৬২ মিমি বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গেলেও কেন তদন্ত হয়নি? সিভিল ড্রেসে কে বা কারা গুলি চালিয়েছে? এরা আসছে কোথা থেকে?

জবাবে বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, এতে দেশের অভ্যন্তরীণ লোকজন জড়িত থাকতে পারে অথবা বাইরের লোকও জড়িত থাকতে পারে—তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (জুলাই-আগস্ট ২০২৪) সাখাওয়াত হোসেন নিজেই এই ৭.৬২ মিমি বুলেটের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গুলশানে গুলিবিদ্ধ আনসার সদস্যদের শরীরেও এই বুলেটের ট্রেস পাওয়া গেছে এবং এর ম্যাসিভ তদন্ত দরকার। তিনি বলেছিলেন, এই অস্ত্র নিষিদ্ধ ধরনের হতে পারে এবং সিভিলিয়ানদের হাতে কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা উচিত—এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের কথাও উল্লেখ করেন।

কিন্তু এই প্রশ্ন তোলার কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অন্য মন্ত্রণালয়ে (বস্ত্র ও পাট, নৌপরিবহন) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর থেকে ৭.৬২ বুলেটের রহস্য নিয়ে কোনো গভীর তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মিটিংয়ে তিনি একাধিকবার এই তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন তিনি আশা করছেন বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান করবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বারবার এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাইয়ের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা ফৌজদারি আইনের দাবি। ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদি হয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত না করা এবং আগ্রহ না দেখানো রহস্যজনক বলে অনেকে মনে করছেন।

জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার বা শার্প প্রফেশনাল শুটারদের সম্ভাব্য জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াতের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার এই রহস্যের পুনরুত্থান ঘটিয়েছে এবং তদন্তের দাবিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

Visited 17 times, 1 visit(s) today