এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে হল সুপারসহ দু’জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে
❐ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল সাময়িকভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সেসময় ছাত্রীরা হোস্টেলে ছিলেন না। এরপরই হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র আন্দোলনের মুখে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের হল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল দিনভর কলেজটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
তাদের দাবি, সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের অপসারণের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলনের মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ হল সুপার মজিবর রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
বুধবার রাতেই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল ছাত্রী হোস্টেল ভবনে রাতযাপন করে। সে সময় হোস্টেলে ছাত্রীরা ছিলেন না। পরে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে বালতি ভর্তি কনডমের প্যাকেট পাওয়া যায় বলে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পোস্ট দিয়ে হোস্টেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দেন।
এর জেরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকাল পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সময়ক্ষেপণ করেছেন। এ কারণে তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে হল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
