❐ বিশেষ প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সদ্য অপসারিত চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুসারে, তিনি এবং তার সহযোগীরা ট্রাইব্যুনালের মামলায় নাম জড়ানোর ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর (কিছু সূত্রে ৮ই সেপ্টেম্বর উল্লেখ) তাজুল ইসলামকে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি তার ঘনিষ্ঠদের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনায় ‘গণহত্যা’ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নাম ঢোকানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালেরই এক প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ প্রকাশ্যে এই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাজুল ইসলামের ডান হাত হিসেবে পরিচিত প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম মূলত অর্থ লেনদেনের ক্যাশিয়ারের ভূমিকা পালন করেছেন।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ক্যাশ লেনদেন, বিদেশে (যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়) টাকা পাচার এবং দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা নেওয়া।
তাজুল ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ২১ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন, যেখানে বড় অংশের লেনদেন হয়েছে বলে দাবি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমর্থন নিয়ে এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল বলেও অভিযোগ।
অভিযোগকারীরা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন, যেগুলোতে অর্থ জমা হয়েছে:
- মোঃ আবুল হোসেন
অ্যাকাউন্ট নং: ৩১৩৩২১৭০০৭৫২৮
প্রাইম ব্যাংক, আইবিবি মিরপুর ব্রাঞ্চ - মোঃ সাইফুল ইসলাম
অ্যাকাউন্ট নং: ১১০১০০৬৬৬৭৬৮৮
যমুনা ব্যাংক, মতিঝিল ব্রাঞ্চ - মোঃ জাহিদ হাসান নয়ন
অ্যাকাউন্ট নং: ১৮৭০২১০১৪০১
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গুলশান ব্রাঞ্চ
একটি ঘটনায় শুধুমাত্র একজনের কাছ থেকে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এগুলোকে ‘ছোট্ট স্যাম্পল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র চাইলে এই অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেনের বিস্তারিত তদন্ত করে অকাট্য প্রমাণ পেতে পারে।
এদিকে, সোমবার (২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে তার স্থলে অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের সব মামলা পর্যালোচনা করা হবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাজুল ইসলাম এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, এগুলো ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে উঠানো।
তবে এই অভিযোগগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি উঠেছে।

