নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ ২৩শে ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সলিসিটর মো. মঞ্জুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মো. আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
একইসঙ্গে তাজুল ইসলামের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। তিনি ২০২৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন জামায়াতপন্থী আইনজীবী তাজুল ইসলাম।
তিনি এই আদালতেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে তাকে এই আদালতের সরকার পক্ষের প্রধান কৌঁসুলী হিসেবে নিয়োগ পান।
তারপর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটি, অপেক্ষমাণ রয়েছে আরও দুটি মামলা।
উল্লেখ্য, তাজুল ইসলাম ১৯৯৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন শিবিরের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তখনকার সময়ে শিবিরের জঙ্গি আস্তানা খ্যত রাবি থেকেই এলএলবি সম্পন্ন করে ১৯৯৮ সাল থেকে আইন পেশায় যাত্রা শুরু করেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিবিরের কুখ্যাত অপরাধীদের হয়ে মামলা লড়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকার্য শুরুর পর ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল কাদের মোল্লার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন তাজুল। জামায়াতের শীর্ষ নেতা কুখ্যাত রাজাকার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পক্ষেও আইনজীবী ছিলেন তাজুল।
রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমসহ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের সবার পক্ষেই তিনি আইনজীবী হিসেবে আদালতে অংশগ্রহণ করেন। একইসাথে জামায়াতের আরেক শীর্ষ আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের নিজের গড়া দল এবং জামায়াতের বি-টিম খ্যাত এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়কও তাজুল ইসলাম।
