বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাজুল ইসলামকে ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তাজুল ইসলাম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের মুখপাত্রদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, তিন দিন আগে (২০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বা প্রসিকিউশন টিমের অন্য সদস্যদের অপসারণের কোনো ইঙ্গিত পাননি। তিনি তখন বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ চলবে।
আমিনুল ইসলাম, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা) দুর্নীতি মামলায় আইনি টিমের সদস্য ছিলেন, সেই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়েছিলেন। এই মামলায় খালেদা জিয়া কারাবাসও করেছেন। তার এই পটভূমি নতুন নিয়োগের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বিক্ষোভে প্রতিবাদকারী ও সাধারণ মানুষের হত্যা ও আহত করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনা করছে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জোরপূর্বক গুমের ঘটনাগুলোর বিচারও চলছে। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার নিয়োগের সময় কিছু বিতর্ক উঠেছিল কারণ তিনি পূর্বে জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধী দায়ে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেছিলেন, এবং সব গুলো মামলাতেই হেরেছিলেন।
এই পরিবর্তনের ফলে ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলা ও ভবিষ্যৎ বিচার প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
