বিদেশী সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন না দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইংয়ের স্বেচ্ছাচারিতা উন্মোচিত:
শফিকুল আলম ও আজাদ মজুমদারের দিকে অভিযোগের আঙুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। এই ঘটনার দায় সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং তার ডেপুটি (উপ-প্রেস সচিব) আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের দিকেই যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক স্যাম জাহান গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসবুক পোস্টে এই অভিযোগ তুলে ধরেছেন।স্যাম জাহান তার পোস্টে লিখেছেন: “Disgusting! Out of dozens of international journalists, only a few — conveniently ex-colleagues of the interim government’s top press officials – were granted long-term Special Branch police passes. As for the rest of us? Our applications didn’t just get rejected months ago; they vanished! Despite multiple submissions, our documents never saw the light of day. In a sickening display of gaslighting, we were told – at the absolute eleventh hour – that we ‘never submitted them at all’ and there will be NO NEW PASSES.”
তিনি আরও বলেন, “I’ve said it before: the interim government’s press department has been a pure circus. We have people reaching far beyond their meager capabilities, playing ‘boss’ in roles they are fundamentally unqualified for. If the international press is eventually shut out of tomorrow’s ceremony, this ‘sacred’ journey will start on the wrong foot. You aren’t just snubbing a few journalists; you are orchestrating a massive PR disaster even before swearing into the parliament! If this is how you handle the global press on Day 01, you’ll face the same thousand questions as the fading government – and you’ll deserve every single one of them.”
স্যাম জাহান, যিনি প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২২-এর পুনঃসংকলন ও সংস্কার কমিটির সদস্য ছিলেন এবং পরে পদত্যাগ করেন, অভিযোগ করেছেন যে বিদেশী সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিশন পাসের আবেদন বারবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে শফিকুল আলম ও আজাদ মজুমদারের হাত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস বিভাগে যোগ্যতার অভাব থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তি ‘বস’ সেজে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়েছেন, যার ফলে শুধুমাত্র প্রেস সচিবের সাবেক সহকর্মীদের মতো কয়েকজনকে দীর্ঘমেয়াদি পাস দেওয়া হয়েছে, বাকিদের আবেদন ‘অদৃশ্য’ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইংয়ের প্রভাব ও স্বেচ্ছাচারিতা:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে শফিকুল আলম (সাবেক এএফপি ব্যুরো চিফ) এবং উপ-প্রেস সচিব হিসেবে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার (সাবেক নিউ এইজ যুগ্ম বার্তা সম্পাদক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সমালোচকরা বলছেন, এই দুজনের হাতে প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন, সাংবাদিকদের পাস ইস্যু এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ায় স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েছে।
বিদেশী সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে শুধু ‘পছন্দের’ কয়েকজনকে অনুমতি দেওয়ার এই প্রবণতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনা নতুন সরকারের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। স্যাম জাহানের মতে, এটি একটি বড় ‘পিআর ডিজাস্টার’ এবং পূর্ববর্তী সরকারের মতোই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে নতুন প্রশাসনকে।
এ বিষয়ে শফিকুল আলম বা আজাদ মজুমদারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে, যা সাংবাদিকতা ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব-প্রতিপত্তির একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
