ওবামাদের নিয়ে বর্ণবাদী ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প, পরে মুছে ফেললেন

ওবামাদের নিয়ে বর্ণবাদী ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প, পরে মুছে ফেললেন
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও শেয়ার করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভিডিওটিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে বানরের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা অনেকেই প্রকাশ্য বর্ণবাদী উপস্থাপন হিসেবে দেখছেন। ব্যাপক প্রতিবাদের পর ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউস জানায়, ভিডিওটি ট্রাম্প নিজে দেখেননি; একজন কর্মীর ভুলবশত এটি পোস্ট হয়েছিল। তবে প্রথমে প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টিকে “ইন্টারনেটের একটি মিম” বলে উল্লেখ করে সমালোচনাকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।

৬২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে বহুবার খণ্ডিত হওয়া ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পুনরাবৃত্তি ছিল। ট্রাম্প এখনও দাবি করে আসছেন যে ওই নির্বাচন তার কাছ থেকে “চুরি” করা হয়েছে, যদিও আদালত ও তার নিজের প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।

ভিডিওটি প্রকাশের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের বহু নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট বলেন, এটি হোয়াইট হাউস থেকে দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী কনটেন্টগুলোর একটি। মিসিসিপির সিনেটর রজার উইকার পোস্টটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস ট্রাম্পকে “বিকৃত ও উগ্র মানসিকতার অধিকারী ব্যক্তি” বলে মন্তব্য করেন। নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএএসিপি-এর সভাপতি ডেরিক জনসনও ভিডিওটিকে “ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক” আখ্যা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস মাসের প্রথম সপ্তাহেই এ ঘটনা ঘটায় সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প এক ঘোষণায় কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জাতির উন্নয়নে অবদানের প্রশংসা করেছিলেন।

ওবামা দম্পতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক ও বিভাজনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতেও তিনি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসরে বর্ণবাদ, অনলাইন দায়িত্বশীলতা ও প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today