‘হ্যাঁ’ ভোটে চাপ মানেই ডিক্টেটরশিপ: নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মির্জা আব্বাস

‘হ্যাঁ’ ভোটে চাপ মানেই ডিক্টেটরশিপ: নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মির্জা আব্বাস
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা আব্বাস বলেন, “সরকার বোঝাচ্ছে—নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট না দিলে এই হবে, সেই হবে। তাহলে তো তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী ঘোষণা করলেই পারত। এটা কোনো নির্বাচনী কথা নয়, এটা ডিক্টেটরশিপ।”

তিনি বলেন, নির্বাচন মানে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ। “যারা খুশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে, যারা খুশি না তারাও তাদের মতামত দেবে। জনগণের ওপর চাপ দেওয়া যাবে না। রায়ের ভার জনগণের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে।”

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণে তিনি সন্তুষ্ট নন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

কেমন নির্বাচন হতে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “জীবনে বহু নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবারের নির্বাচন কেমন হবে, তা এখনই বুঝতে পারছি না। ভোটের পর বোঝা যাবে কেমন নির্বাচন হয়েছে।”

সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার ভাষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “তারা যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন, তাতে বাংলাদেশে অসম্ভব ঘটনা ঘটছে। এসবের জবাব দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন।”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কাউকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন।

তবে নতুন রাজনীতিকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অনেকে চট করে নেতা হয়েছেন। যারা নতুন রাজনীতি করেন, তাদের সিনিয়র নেতাদের অনুসরণ করা উচিত।”

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “অনেকে অন্যের রক্তের ওপর দিয়ে নেতা হয়েছেন, আর আমরা নিজেরাই রাজপথে রক্ত দিয়ে নিজেদের তৈরি করেছি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব হওয়ার কথা, কিন্তু এবার তা উপভোগ করা যাচ্ছে না। বর্তমান আচরণে যেকোনো সময় নির্বাচনী পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসিতে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কথাবার্তায় সহনীয় পরিবেশ নেই।”

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–৮ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, এলাকাবাসী কোনো বড় সংকটের কথা জানাননি।

তার ভাষায়, “মানুষ আমার কাছে চাওয়ার আগেই অনেক কিছু পেয়েছে।”

মেয়র থাকাকালে হাসপাতাল, কবরস্থান ও খেলার মাঠসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে জলাবদ্ধতা ও মশার সমস্যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পর চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছিল, এখন আবার শুরু হয়েছে।”

মতিঝিল এলাকায় ক্যাসিনো বন্ধ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কিশোর গ্যাং নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “এরা কোথায় গেল—খোঁজ নিয়ে দেখেন।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা আব্বাস বলেন, “অবশ্যই পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, দুই লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা সন্দেহজনক। এসব ভোটার শনাক্ত না হলে তাদের ভোট বাতিলের দাবি জানান তিনি। তার মতে, এসব ভোটার নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today