জামায়াতের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ: আসনভিত্তিক তথ্য চায় বিএনপি

জামায়াতের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ: আসনভিত্তিক তথ্য চায় বিএনপি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিএনপি।

দলটির অভিযোগ, গত দেড় বছরে বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর ঘটানো হয়েছে, যার পেছনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংগঠিত ভূমিকা রয়েছে। বিএনপি নেতাদের ভাষায়, এই অভিযোগ মূলত জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেই।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান। বিএনপি নেতারা বৈঠকে ইঙ্গিত দেন, যেসব এলাকায় ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি, সেগুলোতেই জামায়াতের নির্বাচনী তৎপরতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

দলটির দাবি, ভোটের মাঠে সুবিধা নিতে পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হচ্ছে।

“অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধি, ইসির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই”

নজরুল ইসলাম খান বলেন,

“গত প্রায় এক দেড় বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটারের মাইগ্রেশন হয়েছে। বিশেষ কিছু এলাকায় হঠাৎ করে অনেক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যেটা স্বাভাবিক নয়। এরকম ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—কোনো আসনেই দুই–তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়নি। তবে বিএনপি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। “আমরা নিশ্চিত জানি, আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, বাস্তবে ভোটার মাইগ্রেশন এর চেয়ে অনেক বেশি। যারা ইসিকে তথ্য দিয়েছে, তারা সঠিক তথ্য দেয়নি,”—বলেন নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপি নেতা বলেন, কমিশনের কাছ থেকে আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য চাওয়ার উদ্দেশ্য হলো, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে যাচাই করা।
“এর মধ্যে যদি সন্দেহজনক কিছু থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া,”—যোগ করেন তিনি।

ভুয়া ঠিকানা ও ‘হোল্ডিং কারসাজি’র অভিযোগ

ভোটার তালিকা নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এমন হোল্ডিং নম্বরের অভিযোগ আমরা পেয়েছি, যেখানে চার-পাঁচজন মানুষও কখনো বসবাস করেন না, অথচ সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার দেখানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ এটি নতুন কোনো ঘটনা নয় এবং এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। আপনারা জানেন, আগে ভোটার আইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে নানা কেলেঙ্কারি হয়েছে। সেই মন্দ লোকরাই সম্ভবত ভুয়া ভোটার ও পরিকল্পিত ভোটার স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত।”

বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যার সুবিধাভোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম উঠে আসছে।

নির্বাচন কাজে ছাত্রদের যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি

বৈঠকে বিএনপি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)–এর ক্যাডেটদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানায়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “তারা তরুণ ও ছাত্র। সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের যুক্ত করা হলে তারা এবং প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে।”

তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

‘শান্তি কমিটি’ নিয়ে উদ্বেগ

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকায় তথাকথিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন

“শান্তি কমিটি শব্দটাই আমাদের কাছে অপ্রিয়,”—

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি।

বহিরাগত কর্মী ও পর্যবেক্ষক ইস্যু

বিএনপি নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির অনুরোধ, যারা ওই এলাকার ভোটার নন, তারা যেন ভোটের আগের দিনগুলোতে এলাকা ত্যাগ করেন। এ ছাড়া দেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান তেমন পরিচিত নয়।

“পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা আছে—এমন প্রতিষ্ঠানকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত,”—বলেন তিনি।

ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার অভিযোগ

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা বলেন, কিছু দল ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে ভোট চাইছে।
“কবরে প্রশ্ন করা হবে—এমন বক্তব্য দিয়ে ভোট চাওয়া শুধু আইন ভঙ্গ নয়, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত,”—বলেন তিনি।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

Visited 6 times, 1 visit(s) today