রোজা আসার আগেই বেড়েছে গরু-মুরগি আর সুগন্ধি চালের দাম

রোজা আসার আগেই বেড়েছে গরু-মুরগি আর সুগন্ধি চালের দাম
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান মাস শুরু হতে এখনও প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই রাজধানীর বাজারে উৎসবের আগাম চাপ পড়তে শুরু করেছে। গরুর মাংসের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। পাশাপাশি বেড়েছে প্যাকেটজাত ও খোলা সুগন্ধি চালের দাম। যদিও শীতকালীন সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল, তবু প্রোটিন ও উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দামে আগাম বাড়তি চাপ টের পাচ্ছেন ক্রেতারা।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মানিকনগর, মুগদা, তালতলা ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছে।

গরুর কলিজা বিক্রি হচ্ছে ৭৬০ টাকা কেজি দরে, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, হাটে গরুর দাম বাড়ছে। পাশাপাশি রোজার চাহিদা ও কোরবানির আগে খামারিদের গরু ধরে রাখার প্রবণতাও সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে।

তালতলা বাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “রমজান শুরু হতেও তো এখনো সময় আছে। এর মধ্যেই গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা হলে রোজার সময় কী হবে, সেটা ভাবতেই ভয় লাগছে।”

মুরগির বাজারে অস্থিরতা, সোনালি ককে বড় লাফ

গরুর পাশাপাশি মুরগির বাজারেও সপ্তাহ ব্যবধানে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সোনালি কক মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে।

তালতলা ও আগারগাঁও বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায় এবং সাদা লেয়ার ৩০০ টাকায়।

তবে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিতে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ২০ টাকা বেড়ে কেজিতে ৬০০ টাকায় উঠেছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

আগারগাঁও বাজারে সোনালি কক মুরগির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৃহিণী নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, “গরুর মাংস তো সবাই কিনতে পারে না, মুরগির ওপরই ভরসা। কিন্তু এখন মুরগির দামও বাড়ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

সুগন্ধি চালের দামও চড়া

রোজাকে সামনে রেখে বেড়েছে সুগন্ধি চালের দাম। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। খোলা সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে, আগে যা ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

মুদিদোকানিরা বলছেন, চালের দাম আগেই কিছুটা বেড়েছিল। নতুন করে সরবরাহ কমলে সামনে আরও চাপ আসতে পারে।

মানিকনগর বাজারে সুগন্ধি চাল কিনতে আসা এক ক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “রোজায় একটু ভালো চাল খাওয়ার আশা থাকে। কিন্তু চালের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগের মতো কেনা সম্ভব হবে না।”

সবজি বাজার স্থির

মাছের বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। চাষের শিং ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা নেই। শিম প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, সালগম ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ১৪০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

আলুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। নতুন আলু কেজিতে ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা এবং পুরোনো আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের বাজার চড়া। দেশি পুরোনো পেঁয়াজ কেজিতে ১৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রোজা শুরুর আগেই গরু, মুরগি ও সুগন্ধি চালের দামে চাপ পড়তে শুরু করেছে। শীতকালীন সবজিতে স্বস্তি থাকলেও প্রোটিন ও উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ ক্রেতারা। রোজা ঘনিয়ে এলে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে তাকিয়ে আছেন সবাই।

মোহাম্মাদপুর টাউনহল বাজারের ক্রেতা সালমা বেগম বলেন, “সবজি এখনো মোটামুটি আছে, কিন্তু মাংস, মুরগি আর চাল—এই তিনটা জিনিসেই চাপ বেশি। এগুলো ছাড়া রোজার বাজার কল্পনাই করা যায় না।”

Visited 14 times, 1 visit(s) today