সিসিটিভি ফুটেজে প্রাপ্ত আগুন ধরানো ব্যক্তি মানসিক প্রতিবন্ধী- সন্দেহ পুলিশের
জেলা প্রতিনিধি
নরসিংদীতে একটি বদ্ধ গ্যারেজে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চঞ্চল ভৌমিক (২৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল ২৪শে জানুয়ারি, শনিবার ভোরে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দগরিয়া থেকে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
চঞ্চল ভৌমিক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত খোকন ভৌমিকের ছেলে। তিনি ওই গ্যারেজের একজন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ মা এবং প্রতিবন্ধী ছোট ভাইসহ পুরো পরিবারের দায়িত্ব ছিল চঞ্চলের ওপর। তার উপার্জনেই চলত হতদরিদ্র পরিবারটি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার’ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জানাজানি হয়। তবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক গতিবিধি প্রত্যক্ষ করা গেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলেন চঞ্চল। রাতে গ্যারেজে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই চঞ্চল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারে দায়িত্ব পালন করা করা নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসহাক মিয়া বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়, আগুনের উৎস হচ্ছে শর্টসার্কিট। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আশপাশ থেকে মবিলমাখা কাগজ-কাপড় কুড়িয়ে এনে গ্যারেজের সামনেই আগুন ধরায়। তার আচার-আচরণে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হচ্ছে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা, বোঝা যাচ্ছে না।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসবে প্রকৃত তথ্য, জানান ইসহাক মিয়া।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এতে সে জড়িত কিনা, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্যারেজ মালিকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে চঞ্চলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

