স্থানীয় সংবাদদাতা
নরসিংদী জেলা কারাগারে বাঁধন তারণ (২৭) নামের এক সংখ্যালঘু যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে পরিবার অভিযোগ করলেও কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’।
গত ২২শে জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাঁধনের মৃত্যু হয়। তিনি নরসিংদী শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া সেবা সংঘ এলাকার শঙ্কর তারণের ছেলে।
শুক্রবার বাঁধনের স্ত্রী অন্তি তারণ বলেছেন, দুদিন আগেও আমি আমার স্বামীর সাথে কথা বলে এসেছি। সে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক ছিল। খুব দ্রুত তার জামিন হওয়ার কথা ছিল। সে বিষয়ে কাজ করছিলাম আমরা। এরইমাঝে গত রাতে জেল পুলিশ ফোন দিয়ে অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলেছে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত ওখানে গিয়ে দেখি বাঁধন মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। উনারা বলেছেন, হাসপাতালে আনার এক ঘণ্টা আগেই বাঁধন মারা গেছে। আমার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জেলের ভেতরে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
নরসিংদী জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার হুমায়ুন কবীর বলেছেন, “যে অভিযোগ করেছে বাঁধনের পরিবার, তা সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা। কয়েদির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তে রিপোর্ট আসলেই বিষয়টা ক্লিয়ার হবে।
এদিকে, বাঁধনের মৃত্যুর খবর পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনায় ইউনূস সরকারকে দায়ী করেন।
এ ঘটনায় বাঁধনের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
