ঢাবির কনসার্টে সিগারেট বিতরণ আর ‘ইউরেনিয়াম’ স্লোগান নিয়ে উত্তাল অন্তর্জাল

ঢাবির কনসার্টে সিগারেট বিতরণ আর ‘ইউরেনিয়াম’ স্লোগান নিয়ে উত্তাল অন্তর্জাল
শেয়ার করুন

 

বিশেষ প্রতিবেদক

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফরমের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠানে স্মোকিং জোনে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আয়োজক সংগঠন ডাকসু ও স্পিরিট অব জুলাই।

শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

এর আগে, গত ১৫ই জানুয়ারি শীতার্ত মানুষের সহায়তায় দাতব্য এই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় ডাকসু ও স্পিরিট অব জুলাই। ঘোষণায় জানানো হয়, ১৭ই জানুয়ারি বিকেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর মাঠের ভেতরে নির্ধারিত স্মোকিং জোনে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করতে দেখা যায়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস ফেসবুকে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ডাকসু আয়োজিত কনসার্টে একটি তামাক কোম্পানি স্টল বসিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে সিগারেট সরবরাহ করেছে। তিনি এ ঘটনাকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন—একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ধূমপানে উৎসাহ দেওয়া কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার ফেসবুকে লেখেন, তিনি কনসার্টের স্পন্সর সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না। পরে জানতে পারেন, একটি বিড়ি বা সিগারেট কোম্পানি এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বিনা মূল্যে তামাকজাত দ্রব্য বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সমালোচনা করেন।

একই সঙ্গে তিনি সম্প্রতি ধূমপান ও তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সংগীতানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান ও স্লোগান দেন। এ ছাড়া এ সময় তিনি কোটা না মেধা স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীরা তার উত্তরে ব্যঙ্গ করে ইউরেনিয়াম ইউরেনিয়াম স্লোগান দেয়, গোলামী না আজাদী স্লোগানের বিপরীতেও ইউরেনিয়াম ইউরেনিয়াম স্লোগান দেয়, এমনকি তুমি কে আমি কে স্লোগানের বিপরীতেও ইউরেনিয়াম স্লোগান দেওয়া হয়।

এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কাল রাত থেকে ব্যাপট ট্রল করা হয়।

পরে কনসার্টের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও সিগারেট বিতরণসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

তিনি জানান, ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টের স্পন্সর নির্ধারণ বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না এবং পুরো ডাকসুও এ আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল না। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রত্যাশা পূরণে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্পিরিট অব জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন, যদিও ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্টসহ কয়েকজন নেতা এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মোকিং জোনে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার অজানা ছিল এবং বিষয়টি জানার আগেই ঘটনা ঘটে যায়। এ ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।

Visited 11 times, 1 visit(s) today