তালিকায় নাম আছে প্রয়াত সাবেক কাউন্সিলরের
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সম্প্রতি যাদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেই তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার। এমনকি বাদ যাননি প্রয়াত কাউন্সিলরও।
এদের নগরীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
এদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব গত বছরের আগস্টে বন্দর থানার একজন উপপরিদর্শক হামলার শিকার হওয়ার পর ‘অস্ত্র বের করলে গুলি করার’ নির্দেশ দেন। পরে নভেম্বরের নির্দেশে টহল পুলিশকে শটগানের বদলে এসএমজি ‘বার্স্ট ফায়ার’ মোডে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ৩৩০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য, তদন্ত, বা আত্মপক্ষ উপস্থাপনের সুযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধি—এমপি বা কাউন্সিলরের নাম তালিকায় থাকার দাবি নিয়েও আলোচনা চলছে।
সিএমপি প্রকাশিত তালিকার ২২৭ নম্বরে আছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতাউল্লা চৌধুরী। তবে তালিকা প্রকাশের পর জানা যায়—তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে মারা গেছেন। সদরঘাট থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তালিকায় আরও আছেন কারাগারে থাকা চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। রয়েছেন সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ আসনের পলাতক এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, চসিকের সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিন এবং ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের অধিকাংশ কাউন্সিলরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, কারও বাড়ি নগরের ভেতরেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নিজের শহর বা এলাকার নাগরিককে প্রবেশে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের আছে কি না।
আইনজীবীদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ কাউকে নজরদারির আওতায় রাখতে পারে, তবে কোনো নাগরিককে তার নিজ শহরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশনা ছাড়া কার্যকর করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তি বা কারাগারে থাকা ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেটা যাচাই–বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
মানবাধিকারকর্মীরাও বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকায় যুক্ত করা এবং নগরীতে প্রবেশে বাধা দেওয়া মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন।
সিএমপি সূত্র জানায়, তালিকা তৈরি করা হয়েছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, দখল-বিস্তারের অভিযোগ, পুরোনো মামলা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। তবে মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকা ‘তথ্যগত ভুল’ বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট একটি ইউনিট।
তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পাশাপাশি তালিকা সংশোধন, অভিযোগ যাচাই এবং প্রত্যাহারের দাবিও উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে জনপ্রতিনিধিরা কেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কিংবা বহিষ্কার করার নোটিশ জারি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘তালিকার বিষয়ে কমিশনার স্যার ভালো বলতে পারবেন। উনাকেই জিজ্ঞেস করুন।’

