ওসিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, পরদিনই রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী রিয়াজ চৌধুরী

ওসিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, পরদিনই রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী রিয়াজ চৌধুরী
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

১ জুলাই, ২০২৬।

 

সিএমপির সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফের দাবিকৃত মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রিয়াজুদ্দিন চৌধুরী সুমনকে (রিয়াজ চৌধুরী) মারধর, রাতভর নির্যাতন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একযুগ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার ‘অপরাধে’ প্রশাসনিক নিরাপত্তার নামে এই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল বলে ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নেপথ্যে ওসির ‘প্রটেকশন মানি’

অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছুদিন আগে সিএমপির কর্ণফুলী থানা থেকে সদরঘাট থানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকেই ওসি মুহাম্মদ শরীফ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা এলাকার বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই তালিকা ধরে ধরে তিনি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন, আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার ভয় দেখাতেন।

ব্যবসায়ী রিয়াজ চৌধুরীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওসি শরীফ সদরঘাট থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রিয়াজের মুঠোফোনে ঘন ঘন কল আসতে শুরু করে। একযুগ আগের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হতো এবং দেখা করার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হতো। ওসির এসব হুমকিমূলক ফোনের কারণে গত কয়েক মাস ধরে চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন এই ব্যবসায়ী।

 

​হোটেল আগ্রাবাদে হামলা ও রাতভর নির্যাতন

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে গত ২৯শে জুন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে নগরীর ‘হোটেল আগ্রাবাদ’-এ ওঠেন ব্যবসায়ী রিয়াজুদ্দিন চৌধুরী সুমন। সূত্র মতে, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই ওসি শরীফ দলবল নিয়ে হোটেলের কক্ষের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে সুমনকে ব্যাপক মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর সদরঘাট থানায় আটকে রেখে রাতভর তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অবশেষে গতকাল ৩০শে জুন, মঙ্গলবার তাকে গত ৫ আগস্টের সদরঘাট থানা ভাঙচুরের একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান করে দেওয়া হয়।

 

অনুসন্ধানে ওসি শরীফের অতীত খতিয়ান ঘেঁটে জানা যায়, গত বছর মারাত্মক দুর্নীতির দায়ে তাকে কর্ণফুলী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কর্ণফুলী থানায় থাকাকালীন লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত কাউকে বাসা ভাড়া না দেওয়ার জন্য মাইকিং করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

​সিএমপির সিটিএসবির ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম—যিনি ওসি শরীফেরর ব্যাচমেট তাকে সাথে নিয়ে ওসি শরীফ নগরীতে একটি ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিং সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মূল কাজ হলো—প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করা, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা এবং পরবর্তীতে তাদের জামিনে বাধা সৃষ্টি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া।

 

​একজন প্রথম শ্রেণীর ব্যবসায়ীর ওপর ওসির এমন বর্বর নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী রিয়াজ চৌধুরীর পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

 

Visited 13 times, 1 visit(s) today