চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের দৌরাত্ম্য। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় পুরো নগরজুড়ে এখন তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত ও চট্টগ্রামের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘শিবির সাজ্জাদ’–এর সেকেন্ড ইন কমান্ড মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ গত ৩০ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এর মাধ্যমে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি কাটতে না কাটতেই আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে এই অপরাধী চক্র।
‘১ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে গুলি’: হোয়াটসঅ্যাপে হুমকির পরই রাতে হামলা
সর্বশেষ শিকার হয়েছেন নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন মুরাদপুরের হামজারবাগ লেনের রুনা টাওয়ারের মালিক ও মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী মো. শওকত।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট, একটি বিদেশি নম্বর থেকে শওকতের কাছে দুটি ভয়েস মেসেজ আসে। যেখানে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিবারকে নজরদারিতে রাখার বার্তা দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
হুমকি বার্তার অংশবিশেষ
“তোমার ফুল ফ্যামিলির ব্যাকগ্রাউন্ড, বোনকে কোথায় বিয়ে দিছ, কোথায় বিল্ডিং আছে, ছেলে-মেয়ে কোথায় পড়ে—সব বৃত্তান্ত বড় ভাইয়ের কাছে আছে। ৫০ লাখ টাকা দিলে সেইফে থাকবা, না হলে পরিবারের ওপর হামলা হবে। ১ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে রাস্তায় তোমার বাবা, ভাই আর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ঘটনা ঘটবে।”
পরদিন সোমবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে দুই যুবক রুনা টাওয়ারের সামনে আসে। দারোয়ানকে ভবনের মালিকের খোঁজ করার পরপরই গেট লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে হেঁটে সটকে পড়ে।
অন্ধকার ও অকেজো সিসিটিভি: সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা
ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং ভবনের মূল গেটের সিসিটিভি ক্যামেরাও নষ্ট থাকায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোস্তাফা স্বপন জানান, গুলির ধরন দেখে এটি পিস্তলের গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক কল নম্বরের সূত্র ধরে হুমকিদাতা ও হামলাকারীদের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট গ্রুপ থেকে ডিডিএন—একই কায়দায় বারবার আক্রমণ
অপরাধ বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে নগরীর চকবাজার এলাকায় ‘স্মার্ট গ্রুপ’-এর মালিকের বাসভবনে ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে পরপর দু’বার গুলি চালানো হয়।
এছাড়া, গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে ‘ডিডিএন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা ও লুটপাট চালায় ডেভিড ইমনের অনুসারীরা।
পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও সন্ত্রাসী সাজ্জাদের আরেক দুর্ধর্ষ শুটার রায়হান আলমসহ বাহিনীর বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের ছড়ানো এমন একের পর এক তাণ্ডবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।
